বিদেশে পাচার হচ্ছে গ্রাহকের তথ্য!

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশে পাচার হচ্ছে গ্রাহকের তথ্য!

ভুয়া ও জুয়ার অ্যাপের খুদে বার্তায় সয়লাব হয়ে উঠছে মোবাইল গ্রাহকদের নম্বর। একবার এই ফাঁদে পা দিলেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাহকদের নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর দুর্বল ডিজিটাল কাঠামো। এর সঙ্গে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের অসহযোগিতা দিন দিন আরও বাড়িয়ে তুলছে গ্রাহক ও আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ঝুঁকি।



শুধু অর্থ নয়, বিপুল পরিমাণ তথ্যও পাচার হচ্ছে বিদেশে। ‘আপনি ৫ লাখ টাকা জিতেছেন’, ‘১০ লাখ টাকা জিতেছেন-এমন নোটিফিকেশন নিয়মিত ভেসে ওঠে গ্রাহকের মোবাইল ফোনে। একবার এই টোপে ধরা দিলে সর্বস্ব হারানো অনিবার্য। সম্প্রতি একজন ব্যবসায়ীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে তার মুঠোফোনে থাকা সব ধরনের ব্যবসায়িক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডাটাবেজ হ্যাক করে নেয়া হয়।


 

এমনই এক ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন মঞ্জুর হোসেন। অনলাইনে মঞ্জুর হোসেনের স্টক করা পেজগুলোর ফলো ধরে দফায় দফায় তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে স্টক এক্সচেঞ্জের মতো হুবহু অ্যাপ ব্যবহার করে টোপ ফেলে দুর্বৃত্তরা।

 


তিনি বলেন, প্রথমে প্রতারকরা ফোন দিয়ে বলেছে আপনি আমাদের এখানে অ্যাকাউন্ট করতে পারেন, এখন এখান থেকে আপনি বিজনেস করতে পারেন।

 


এদিকে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ব্যবসায়ী বা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সিম কার্ড পাওয়ার খবর মেলে। এসব সিমের কোনোটি হতে পারে আপনার নামে, কোনোটি আমার নামে। তবে যাদের নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করা, তাদের অনেকেই তা জানেন না। তবে এসব নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন সাইট ও জুয়ার অ্যাপে।

 

 

প্রযুক্তিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল কাঠামোর ডিজিটালাইজেশন। ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুণ অর রশীদ বলেন, মোবাইল ফোন বা অনলাইনে যেসব প্রতারণা ঘটছে, তার মূলেই রয়েছে সিম।

 


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এখনো কোনো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সাইবার দুর্বৃত্তায়নের ঘটনা ঘটলে অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য পুলিশকে দিতে চায় না। নিজেদের নীতিমালায় কাস্টমারের ডেটা সুরক্ষার কথা বলে, না বুঝেই কিছু ক্ষেত্রে তারা অপরাধীদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

 


ডিজিটাল ফাইন্যানশিয়াল ক্রাইম বেড়েছে-এ কথা স্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকও। তবে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা বা শৃঙ্খলা বাহিনী যারা তদন্তে কাজ করতে চায়, তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার বিষয়ে এমএফএস ও ব্যাংকগুলোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

 

sidebar ad