ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলার পর ইউক্রেনে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনকে কাবু করতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় শনিবারও (১৭ জানুয়ারি) খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া কিয়েভ ও ওডেসা অঞ্চলেও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় বহু বসতি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, সমঝোতায় কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছে না রাশিয়া, বরং শীতের মধ্যে ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গ্রিডে ধারাবাহিক হামলা বাড়াচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কও ঝুঁকিতে পড়ছে।
এসব আঘাত যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান দেশগুলোর যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগকে দুর্বল করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও বেশি পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চান জেলেনস্কি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ আমদানি দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলেনস্কি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রিড বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ জোগাতে পারছে। রাষ্ট্রায়ত সংস্থাগুলোকে নিজেদের অন্তত ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
এরমধ্যেই, রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। তারা হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকোলের সঙ্গে বৈঠক করবে।
এসব বৈঠকে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।