শশুর বাড়ি মধুর হাড়ি নাকি চ্যালেঞ্জ?

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬

শশুর বাড়ি মধুর হাড়ি নাকি চ্যালেঞ্জ?

শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে সম্পর্কটা ভয়-ভীতি বা দূরত্বের না হয়ে হওয়া উচিত সম্মান,বোঝাপড়া আর ধৈর্যের।একটা সুন্দর ভারসাম্য।এটা এমন একটা সম্পর্ক,যেখানে আপনি শুধু কারো বউ/স্বামী না, বরং ধীরে ধীরে একটা নতুন পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেন।


কেমন সম্পর্ক হওয়া উচিত?

#সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক শশুর-শাশুড়ি বা আত্মীয়দের সাথে কথায়, আচরণে সম্মান রাখাটা সবচেয়ে জরুরি।একইভাবে তাদের কাছ থেকেও সম্মান আশা করা যায়।কিন্তু সেটা জোর করে না,আচরণ দিয়ে অর্জন করতে হয়।


#বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু সীমার মধ্যে খুব বেশি দূরত্বও নয়, আবার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতাও নয়।একটা আরামদায়ক সৌজন্য থাকলেই সম্পর্ক সুন্দর থাকে।


#বোঝাপড়ার মানসিকতা সব পরিবারে নিয়ম, অভ্যাস,চিন্তাভাবনা আলাদা। তাই আমারটাই ঠিক এই মনোভাব না রেখে একটু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা সম্পর্ক সহজ করে।


#ধৈর্য রাখা নতুন পরিবেশে শুরুতে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।তাড়াহুড়ো করে রিয়্যাক্ট না করে সময় দিলে অনেক সমস্যা নিজে থেকেই কমে যায়।


#যোগাযোগটা পরিষ্কার রাখা মনে জমিয়ে না রেখে শান্তভাবে কথা বললে অনেক ছোট সমস্যা বড় হয় না।নীরব অভিমান অনেক সময় সম্পর্ককে দূরে ঠেলে দেয়।


শশুর বাড়ির সম্পর্কটা একদিনে পারফেক্ট হয় না। এটা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটা বন্ধন।এখানে জিত-হার নেই,আছে শুধু বোঝার চেষ্টা আর মানিয়ে নেওয়ার সৌন্দর্য।



শাশুড়ির নেতিবাচক মনোভাব থাকলে বিষয়টা সত্যি মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হতে পারে।কিন্তু একটু স্মার্টভাবে আচরণ করলে অনেক ঝামেলা কমানো যায়।নিচে কিছু বাস্তব ট্রিকস দিলাম।

একদম কাজের কথা। 


#রিঅ্যাক্ট না করে রেসপন্ড করুন।


#নেতিবাচক কথা শুনলে সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে একটু সময় নিন।


#শান্তভাবে ছোট করে উত্তর দিন।ঝগড়ায় না গিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখাই লক্ষ্য।


#ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না

অনেক সময় শাশুড়ির রাগ বা নেতিবাচকতা আপনার প্রতি না,বরং অভ্যাস বা স্ট্রেস থেকে আসে।

সব কিছু আমার বিরুদ্ধে ভাবলে কষ্ট বেশি হবে।


#সীমা পরিষ্কার রাখুন

অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বা সব কিছু শেয়ার করা শুরুতে সমস্যা বাড়াতে পারে।

কিছু বিষয় নিজের মধ্যে রাখুন,কিছু বিষয়ে ভদ্রভাবে না বলতে শিখুন।


#ভালো আচরণে ধারাবাহিক থাকুন

একদিন ভালো,একদিন খারাপ এটা না।

শান্ত,সম্মানজনক আচরণ নিয়মিত রাখলে ধীরে ধীরে মনোভাব নরম হতে পারে।


#স্বামী/পার্টনারকে মধ্যস্থতাকারী বানান (স্মার্টভাবে)

সব অভিযোগ সরাসরি না বলে,প্রয়োজনে স্বামীকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন।

কিন্তু তুমি গিয়ে ঝগড়া করো,টাইপ চাপ না দিয়ে সমাধানমুখী থাকুন।


#ছোট ছোট পজিটিভ মুহূর্ত তৈরি করুন

চা বানিয়ে দেয়া,হালকা কথা বলা,ছোট সহযোগিতা,এসব ছোট জিনিস সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করে।


#নিজের মানসিক শান্তি আগে রাখুন।সবাইকে বদলানো সম্ভব না।তাই নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মসম্মান ঠিক রেখে চলাই সবচেয়ে জরুরি।


#নেতিবাচক শাশুড়িকে জিততে না গিয়ে চেষ্টা করুন পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে।


#সব সম্পর্ক বদলানো যায় না,কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া বদলালে সম্পর্ক অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।



ননদ–দেবর–জা—এই সম্পর্কগুলো একসাথে সুন্দর রাখতে গেলে সবাইকে খুশি করা লক্ষ্য না রেখে বরং ঝামেলা কমিয়ে শান্তভাবে চলা এই মানসিকতা সবচেয়ে কাজের।


নিচে কিছু বাস্তব ট্রিকস দিলাম 

*প্রত্যেকের সাথে আলাদা বোঝাপড়া গড়ে তুলুন

ননদ, দেবর, জা—সবাই একরকম না।

কারও সাথে বেশি কথা হবে,কারও সাথে কম।এটাই স্বাভাবিক।সবাইকে এক স্কেলে মাপতে যাবেন না।


*প্রতিযোগিতা নয়,দূরত্ব কমান।অনেক সময় জা–জা বা ননদদের মধ্যে অজান্তে তুলনা চলে আসে।কে ভালো এই দৌড় না করে কে কতটা শান্তভাবে থাকে এদিকে ফোকাস করুন।


*গসিপ থেকে দূরে থাকুন

পরিবারে সবচেয়ে বড় আগুন লাগে কথার ভুল ব্যবহারে।কারও কথা কারও কাছে বলে ফেলা এটা এড়িয়ে চলুন একদম।


*ছোট ছোট সৌজন্য দেখান।সবসময় বড় কিছু করার দরকার নেই।

একটু হাসি,হালকা কথা, ছোট সাহায্য এগুলো সম্পর্ক নরম রাখে।


*সীমা বাউন্ডারি  বুঝে চলুন।অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে সব কিছু শেয়ার করলে সমস্যা হতে পারে।

আবার একেবারে দূরে থাকলেও ভুল বোঝাবুঝি হয়।

একটা ভদ্র দূরত্ব + সৌজন্য ব্যালান্স রাখুন।


*তর্কে জিততে যাবেন না

ননদ বা দেবরের সাথে আমি ঠিক প্রমাণ করবো এই মানসিকতা অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট করে।

শান্ত থাকা অনেক সময় জেতার থেকেও শক্তিশালী।


*নিজের মানসিক শান্তি আগে রাখুন।সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব না।যে জায়গায় সম্মান নেই,সেখানে নিজেকে বেশি খরচ করবেন না।


ননদ–দেবর–জা সম্পর্কটা রক্তের না হলেও মানসিক বোঝাপড়া ছাড়া সুন্দর হয় না।

বন্ধু না হোক,শত্রু না হই এই মধ্যপন্থাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


শেষ কথা (ইতিবাচক ও স্মার্ট উপদেশ)

পরিবারে সম্পর্ক সবসময় নিখুঁত হয় না,কিন্তু চেষ্টা করলে সুন্দর করা যায়। সবাইকে বদলানো যায় না।কিন্তু নিজের আচরণ,ধৈর্য আর মনোভাব বদলানো যায়।কখনো কখনো চুপ থাকা দুর্বলতা না,বরং সেটাই সবচেয়ে বড় স্মার্টনেস।আবার কোথাও নিজের সম্মান বজায় রেখে ভদ্রভাবে সীমা টেনে দেওয়াটাও শক্তির পরিচয়।

সবাইকে জিততে দিতে হয় না,আবার হারতেও হয় না।শুধু পরিস্থিতিকে শান্ত রাখা শিখলেই অনেক সম্পর্ক সহজ হয়ে যায়।

মনে রাখবেন,

ভালো সম্পর্ক জোর করে তৈরি হয় না,এটা গড়ে ওঠে বোঝাপড়া,ধৈর্য আর ছোট ছোট ইতিবাচক আচরণের উপর।



লেখাঃ ইশরাত জাহান ইনা 


sidebar ad