অবশেষে ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবি— এই তিন পক্ষের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বেকায়দায় পড়েছিল আইসিসি। কেননা, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যদি না হয়, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি। সে কারণে বিভিন্নভাবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে এক বৈঠক করে আইসিসি। সেই বৈঠকে পিসিবি ও বিসিবি আইসিসিকে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। আইসিসিও সেই শর্তগুলো মেনে নেয়।
আইসিসি দুই বোর্ডের সব শর্ত মেনে নেওয়ার পর পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার। তবে অনেকের কাছে পাকিস্তানের এই ইউটার্নের ঘটনা অনুমিতই ছিল। পাকিস্তানের এমন ইউটার্নে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়াও বেশ খুশি হয়েছেন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আকাশ চোপড়া বলেছেন, ‘পাকিস্তান, আইসিসি এসব নিয়ে একের পর এক খবর আসছিল। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ইউটার্ন মেরে দিয়েছে। এই সম্মান রাখবো, সেই সম্মান রাখবো; তবে তারা কীসের সম্মানের কথা বলছে ঈশ্বরই জানেন।’
আকাশ চোপড়া আরও বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বলেছে, ইকোসিস্টেম ঠিক রাখতে এই খেলা উচিত। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীও কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে যেতে বলেছিল। সাথে সাথে পাকিস্তান ইউটার্ন মেরে দিয়েছে।’
এর আগে বিক্রান্ত গুপ্তা বলেছিলেন, পাকিস্তান এশিয়া কাপের মতো এসব করে শেষ পর্যন্ত ঠিকই খেলবে। আকাশ চোপড়া অবশ্য গুপ্তার সেই কথা আবারও মনে করিয়ে দিলেন। ‘বিক্রান্ত গুপ্তা বলেছিলেন, পাকিস্তান এশিয়া কাপের মতো শুরুতে এসব করে শেষে ঠিকই খেলবে। আপনি ঠিকই বলেছিলেন। এবারও অনেক নাটকের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচে পাকিস্তান ঠিকই খেলছে।’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ না রেখে উল্টো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির অবিচারের অভিযোগও তোলে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তখন থেকেই আলোচনা চলছিল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি।
এরপর বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে আইসিসি। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একাধিক শর্ত জুড়ে দেয়। আইসিসিও সেই শর্ত মেনে নেয়। ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।