ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জামায়াতে ইসলামীর ‘অগ্রাধিকার’ বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সব নাগরিক সমান এবং এখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা আমাদের অগ্রাধিকার।’
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর তথাকথিত সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবাই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। এখানে আমরা কখনও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজনকে সমর্থন করি না।’
ভারত সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, ভারত সফরের বিষয়ে তার কোনো দ্বিধা বা বাধা নেই। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে।
প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে ফেরার এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নির্বাচনে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই জোটে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি), যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত।
দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এসব বিষয়ই নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল এই দেশে এসব ইস্যু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।