ঘরের কাজকে বোঝা নয়, আনন্দের অংশ বানাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

আমাদের প্রতিদিনের ঘরের নিত্যকার কাজগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে শরীরকে সচল রাখার অনেক সুযোগ।

ঘর গোছানো, রান্না করা, কাপড় ভাঁজ করা, মেঝে পরিষ্কার করা কিংবা গাছের যত্ন নেওয়া এসব কাজ শুধু ঘরের দায়িত্ব নয়, 

এগুলো হতে পারে আপনার দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রমেরও একটি অংশ।


তাই ঘরের কাজকে একঘেয়ে দায়িত্ব বা চাপ হিসেবে না দেখে একটু অন্যভাবে দেখুন। পছন্দের গান শুনতে শুনতে, নিজের মতো করে সময় নিয়ে, কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিয়ে করুন।


কারণ কাজটা একই থাকলেও, সেটিকে উপভোগ করার মানসিকতাই আপনার প্রতিদিনের জীবনকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।


১. ঘর গোছানোকে বানান মর্নিং মুভমেন্ট (Morning Movement)


বিছানা গুছানো, পর্দা সরানো, ঘরের জিনিসপত্র ঠিক জায়গায় রাখা

সবকিছু একসঙ্গে না করে ১৫–২০ মিনিটের ছোট একটি মুভমেন্ট সেশন হিসেবে করুন। পছন্দের গান চালিয়ে দিলে কাজটাও অনেক আনন্দের হতে পারে।


২. রান্নাকে বানান নিজের (Creative Time) 


প্রতিদিনের রান্নায় ছোট ছোট নতুনত্ব আনুন। নতুন কোনো রেসিপি চেষ্টা করা,কিংবা ইউটিউব দেখে নতুন কিছু ট্রাই করে সবাইকে চমকে দেয়া, খাবার সুন্দর করে সাজানো বা পরিবারের পছন্দের কোনো পদ রান্না করা।

রান্নাকে শুধু রোজকার কাজ মনে হবে না। তখন মনে হবে  “রান্না আত্মার জন্য এক ধরনের থেরাপি।”


৩. কাপড় গোছানোকে করুন মাইন্ডফুল এক্টিভিটি (Mindful Activity) 


কাপড় ভাঁজ করার সময় টিভি বা মোবাইলে পছন্দের কোনো পডকাস্ট, গল্প বা অডিও শুনতে পারেন। একই সঙ্গে হাতের কাজ ও মন দুটোই ব্যস্ত থাকবে।কিংবা কাপড় দ্রুত ও সহজে সংরক্ষণ করার জন্য আজকাল চাইনিজ টেকনিক কিছু ভিডিও দেখা যায় সেগুলো নিজে থেকে চেস্টা করে দেখুন।প্রতিটি কাজে যখন সাক্সেসফুল হবেন এক অন্য রকম কনফিডেন্স ফিল করবেন নিজের ভেতরে।


৪. বারান্দা বা জানালার পাশে গাছের যত্ন নিন


গাছে পানি দেওয়া, শুকনো পাতা পরিষ্কার করা, টব গোছানো এগুলো হালকা শারীরিক কাজের পাশাপাশি মনকেও বেশ প্রশান্ত করে।গাছের পাশাপাশি প্রকৃতি র জীবের জন্য কিছু করা যায় কিন্তু। ধরুন ২/১ টা পাত্র বানিয়ে গ্রিলে বেধে রাখুন। তাতে কিছু পানি কিছু চাল বা পাখিদের খাদ্য রাখতে পারেন। তপ্ত দুপুরে ক্লান্ত পাখিদের খেতে দেখলে নিজের ভেতরে এক অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করবেন।


৫. ঝাড়ু বা মপিংকে বানান এক্টিভ এক্সারসাইজ (Active Exercise) 


ঝাড়ু দেওয়া, মেঝে মোছা, নিচু হয়ে জিনিস পরিষ্কার করা,এসবের মধ্যেও শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়া করে। যেমন- মনে করুন কয়েকটি এরোবিকের স্টেপ ই করে নিলেন।তবে ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ করলে কোমর বা হাঁটুতে চাপ পড়তে পারে, তাই শরীরের ভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখুন।আর ঘর পরিস্কার করুন নাচের তালে তালে।


৬. রান্নাঘর পরিষ্কারকে করুন বিফোর আফটার চ্যালেঞ্জ ( “Before–After Challenge”) 


কাজ শুরুর আগে রান্নাঘরটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলুন ২০ মিনিট পর এটাকে কতটা সুন্দর করতে পারি?

কাজের আগে একটা ছবি তুলুন। কাজ শেষে পরিবর্তনটা দেখুন। নিজের কাজের ফল চোখের সামনে দেখা বেশ স্যাটিসফাইং( satisfying)


এবার আরেকটি ক্লিক করুন নিজের সেল্ফি। আর কেউ না করুক আপনি নিজেই নিজের কাজের প্রশংসা করবেন বিফোর আফটার ছবি দেখে।


৭. ঘর সাজানোর ছোট ছোট প্রজেক্ট নিন


একদিন শুধু বইয়ের তাক, আরেকদিন ড্রেসিং টেবিল, অন্যদিন রান্নাঘরের একটি ড্রয়ার এভাবে ছোট জায়গা নিয়ে কাজ করুন। পুরো ঘর একদিনে গোছানোর চাপ নেবেন না। মাঝে মাঝে ফার্নিচার গুলো এদিক ওদিক করুন।একঘেয়েমি ভাব টা আর থাকবে না। 


৮. পরিবারের কাজ ভাগ করে নিন


ঘরের কাজ একজনের একার দায়িত্ব নয়। সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট দায়িত্ব দিন। 

যেমন ছুটির দিন সাহেব কে বাজারে পাঠান।বাচ্চাদের ঘর গোছাতে বলুন।স্বামী স্ত্রি একসাথে বাসন মাজা ঘষা করতে করতে গল্প জুরে দিন। এতে কাজের চাপ কমে এবং একসঙ্গে কাজ করার আনন্দও তৈরি হয়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা:


ঘরের কাজকে “আমার ওপর চাপানো কাজ” ভাবলে বিরক্তি আসাটাই স্বাভাবিক। বরং ভাবুন,আমি আমার নিজের থাকার জায়গাটাকে সুন্দর করছি, আর একই সঙ্গে শরীরটাকেও সচল রাখছি। প্রতিটি কাজ পারফেক্ট করতে হবে না, ইনজয় করে করুন।


তাহলে একই ঝাড়ু দেওয়া, রান্না করা বা ঘর গোছানো রোজকার কাজের ধরন একই থাকলেও কাজটাকে দেখার চোখটা বদলে যায়। 


sidebar ad