ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে জনসমক্ষে নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে জনসমক্ষে নেতানিয়াহু

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার দাবি করে, তারা তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুকে জনসমক্ষে দেখা যায়।


ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে জনসমক্ষে 


আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়,  ‘ইহুদি শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।’


শনিবার মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কথা উল্লেখ করে গার্ডরা জানিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল।

 

এই দাবির কয়েক ঘন্টা পরে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে জনসমক্ষে উপস্থিত হন, যেখানে নয়জন নিহত হন। তিনি বলেন যে, মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানের লক্ষ্য ইরানের অভ্যন্তরে পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করার পাশাপাশি অস্তিত্বের হুমকি দূর করা।

 

ইরানে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার পর শেষবার দেখা গিয়েছিল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। তবে তৃতীয়দিনের মাথায় আবারও তাকে দেখা যায়। 


এ সময় নেতানিয়াহু বলেন, এটি অপারেশন রোরিং লায়নের তৃতীয় দিন—এই অভিযানটি আমাদের মহান বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একযোগে শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। মার্কিন ও সমগ্র বিশ্বের প্রতি বড় হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য।


তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি—একটি স্থানে, যেখানে তেহরানের সন্ত্রাসীরা নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করেছে। আপনারা পার্থক্যটি দেখতে পাচ্ছেন। তেহরানের স্বৈরশাসকরা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। আমরা তেহরানের সেই স্বৈরশাসকদের লক্ষ্যবস্তু বানাই, বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করার জন্য।’


নিজেদের হামলার বিষয়ে কোনো কথা না বলে ইরানের হামলায় উদ্বিগ্ন হয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আর যদি এই শাসনব্যবস্থা—এমন এক সন্ত্রাসী শাসন, যা আমরা বিশ্বে আগে কখনও দেখিনি—যদি তারা পারমাণবিক অস্ত্র এবং তা বহনের উপায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জন করে, তবে তারা সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।’

 

পরে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তাই আমরা নিজেদের রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি, কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা আরও অনেককেই রক্ষা করছি। আমি বিশ্বনেতা ও আমাদের মহান বন্ধু ডনাল্ড ট্রাম্পকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই—বিশ্বকে রক্ষা করার এই প্রচেষ্টায়।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

sidebar ad