দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষ জনবলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মার্চেন্ডাইজিং, উৎপাদন পরিকল্পনা, সাপ্লাই চেইন, লিন ম্যানেজমেন্ট ও কমপ্লায়েন্সের মতো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের প্রয়োজন রয়েছে। এই বাস্তবতায় SICIP-BKMEA-এর উদ্যোগে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য থাকছে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ ভাতা এবং চাকরির প্রস্তুতিতে সহায়তার সুযোগ।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ বা নিজের ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যে চার বিষয়ে প্রশিক্ষণ
কর্মসূচির আওতায় মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এগুলো হলো—
১. Apparel Merchandising
পোশাকশিল্পের অর্ডার গ্রহণ থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে মার্চেন্ডাইজিং সরাসরি যুক্ত। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ একজন শিক্ষার্থীকে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাজ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে পারে।
২. Production Planning & Supply Chain Management
একটি পোশাক কারখানায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন সম্পন্ন করা, কাঁচামাল ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ও উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয়—সবকিছুর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই কোর্সে উৎপাদন পরিকল্পনা ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৩. Advanced Garments Production and Lean Management
উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা, অপচয় কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে Lean Management গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বা এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
৪. Social & Environmental Compliance for RMG
আধুনিক পোশাকশিল্পে সামাজিক ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মপরিবেশ, শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে এই প্রশিক্ষণ সহায়ক হতে পারে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে Graduation অথবা Diploma in Engineering উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী প্রশিক্ষণের সুযোগ নিতে পারবেন।
বিশেষ করে যারা পোশাকশিল্পে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান, বর্তমানে চাকরি খুঁজছেন অথবা নিজেদের বিদ্যমান দক্ষতা আরও উন্নত করতে চান, তাঁদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার একটি সুযোগ হতে পারে।
তিন মাসের প্রশিক্ষণ
প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস। সপ্তাহে পাঁচ দিন—রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার—ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিনের ক্লাসের সময় চার ঘণ্টা এবং প্রশিক্ষণ হবে অফলাইনে। ফলে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভাতা ও চাকরির প্রস্তুতি
এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলো বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান এবং চাকরির প্রস্তুতিতে সহায়তা। অর্থাৎ শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতিতেও সহায়তার লক্ষ্য রয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রস্তুতি একজন প্রশিক্ষণার্থীকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও সুযোগ
প্রশিক্ষণের জন্য দুটি স্থান উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকায় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে iART Dhaka, Planners Tower-এর ১৭তম তলায়, ১৩/এ সোনারগাঁও রোড, বাংলামোটরে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের প্রশিক্ষণকেন্দ্র iART Narayanganj, BKMEA Bhaban-এর ৫ম তলা, চাষাঢ়ায়।
ফলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারবেন।
যোগাযোগ
ঢাকার iART-এর জন্য যোগাযোগ নম্বর:
01901-884101, 01977-801027
নারায়ণগঞ্জের iART-এর জন্য:
01901-884102, 01715-615091
যোগাযোগের সময় হিসেবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষতার সঙ্গে বদলাতে পারে ক্যারিয়ারের পথ
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই শিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুধু সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, শিল্প সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মার্চেন্ডাইজিং থেকে উৎপাদন পরিকল্পনা, সাপ্লাই চেইন থেকে লিন ম্যানেজমেন্ট কিংবা সামাজিক ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের আগ্রহ ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে কোর্স বেছে নিতে পারেন।
বিশেষ করে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।
বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি থেকে জেনে নিন: