লিভারের সমস্যা হলে পায়ের যেসব লক্ষণে নজর রাখতে হয়

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা থেকে শুরু করে শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা—বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে এই অঙ্গটি। কিন্তু দীর্ঘদিন লিভারের ক্ষতি হলে, বিশেষ করে সিরোসিসের মতো জটিল অবস্থায়, শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা যায় পা ও গোড়ালিতেও।



১. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া: লিভারের গুরুতর রোগে পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় অতিরিক্ত তরল জমে ফোলাভাব হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘ইডিমা’ বলা হয়। দুই পা বা গোড়ালি নিয়মিত ফুলে থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



২. পায়ের ত্বক টানটান বা চকচকে দেখানো: তরল জমে পা ফুলে গেলে ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় টানটান, মসৃণ বা চকচকে দেখাতে পারে। চাপ দিলে কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে সাময়িক দাগ বা গর্তও তৈরি হতে পারে—যা ইডিমার একটি লক্ষণ। তবে পা ফুলে যাওয়ার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।



৩. পা ভারী বা অস্বস্তিকর লাগা: ফোলাভাবের সঙ্গে পা ভারী, শক্ত বা অস্বস্তিকর লাগতে পারে। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় থাকার কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু পা ভারী লাগলেই লিভারের রোগ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়; অন্যান্য উপসর্গ ও চিকিৎসা-ইতিহাসও বিবেচনা করতে হয়।



৪. পায়ে চুলকানি: লিভারের কিছু রোগে শরীরজুড়ে চুলকানি হতে পারে, যা পায়েও অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে কোলেস্টেসিস বা কিছু দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে চুলকানি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হতে পারে।



৫. পা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে পেটও ফুলে ওঠা: লিভারের গুরুতর ক্ষতিতে পেটের ভেতর তরল জমে ‘অ্যাসাইটিস’ এবং একই সঙ্গে পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। পা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



শুধু পা ফুললেই লিভারের সমস্যা নয়


পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়ার পেছনে দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, কিছু ওষুধ, শিরার সমস্যা, কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের রোগসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই পা ফুলে যাওয়াকে সরাসরি লিভারের রোগের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।



তবে পা বা গোড়ালি বারবার ফুলে যাওয়ার সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, তীব্র চুলকানি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, গাঢ় প্রস্রাব বা সহজে কালশিটে পড়ার মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।



লিভারের রোগ অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই ঝুঁকি থাকলে বা উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।



তথ্যসূত্র: NHS, Mayo Clinic

sidebar ad