অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া নিয়ন্ত্রণে নারীদের এই অভ্যাস আয়ত্ত করা কেন জরুরি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: প্রতীকী
ছবি: প্রতীকী

অতিরিক্ত ওজন কমানো কিংবা আদর্শ ওজন ধরে রাখা—যেটাই লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বা ‘ক্রেভিং’ হলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীরে তার অতিরিক্ত অংশ চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। তাই ক্ষুধা পেলেই বেশি খাওয়ার বদলে এমন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া জরুরি, যা পেট ভরা রাখতে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট ও ওষুধ পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব গ্রহণ করা সবসময় নিরাপদ নয়। এগুলোর কোনো কোনো উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করা ভালো।


প্রবল ক্ষুধা কিংবা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা যদি ওজন কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন নিচের খাবারগুলো—


ওটমিল


এক বাটি গরম ওটমিল দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা ফাইবার তৃপ্তির অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক। ওটমিলের সঙ্গে পছন্দের কিছু ফল যোগ করলে খাবারটি আরও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে।


কাঠবাদাম


ক্ষুধা পেলে এক মুঠো কাঠবাদাম ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদামের পাশাপাশি আখরোট, পেস্তা ও কাজুও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে বাদাম ক্যালোরিসমৃদ্ধ হওয়ায় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।


টক দই


প্রোটিনসমৃদ্ধ ঘন টক দই অল্প পরিমাণেই তৃপ্তি দিতে পারে। চাইলে চিনি ছাড়া গ্রিক দই বেছে নিতে পারেন। তবে বাজারে পাওয়া ফ্লেভারযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্টি দই কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়া ভালো, কারণ এতে বাড়তি চিনি থাকতে পারে।


তিসির বীজ


টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে খেতে পারেন। এতে ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে, যা পেট ভরা রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। চিয়া সিডসহ অন্যান্য বীজও পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।


আপেল


ক্ষুধা বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা দেখা দিলে একটি আপেল হতে পারে সহজ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প। আপেলে পানি ও ফাইবার থাকায় এটি তৃপ্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নাশপাতিও একইভাবে একটি ভালো ফলের বিকল্প।


পুদিনা পাতার চা


বারবার কিছু খেতে ইচ্ছা করলে চিনি ছাড়া এক কাপ পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। গরম পানিতে তাজা পুদিনা পাতা বা টি-ব্যাগ কয়েক মিনিট ভিজিয়ে এই পানীয় তৈরি করা যায়। তবে পুদিনা চা যে সরাসরি ক্ষুধা কমিয়ে দেয়—এমন শক্ত প্রমাণ সীমিত; তাই এটিকে স্বাস্থ্যকর, কম-ক্যালোরির পানীয় হিসেবে নেওয়াই ভালো।


সবশেষে মনে রাখতে হবে, শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবার খেলেই ওজন কমবে—এমন নয়। নিয়মিত সুষম খাবার, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, ঘুম ও শারীরিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়েই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সম্ভব। ক্ষুধা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা দীর্ঘদিন ওজন নিয়ে সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


সূত্র: হেলদি বিল্ডার্জ

sidebar ad