রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগেন কারা নারী না পুরুষ?

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬

রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগেন কারা নারী না পুরুষ?

রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বর্তমান বিশ্বে একটি অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা এই সমস্যায় অনেক বেশি ভোগেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৩০ শতাংশই রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত।


নারীদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণসমূহ:


মাসিক বা ঋতুস্রাব:

নারীদের রক্তশূন্যতায় ভোগার প্রধান কারণ হলো প্রতি মাসের নিয়মিত ঋতুস্রাব।


এসময় শরীর থেকে যে পরিমাণ রক্ত বেরিয়ে যায়, অনেক সময় খাবারের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয় না। বিশেষ করে যাদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।


গর্ভাবস্থা ও মাতৃদুগ্ধ দান:

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীরে রক্তের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, তখন মায়ের শরীরকে গর্ভস্থ শিশুর জন্য অতিরিক্ত রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ করতে হয়।


এ ছাড়া সন্তান জন্মের সময় রক্তক্ষরণ এবং শিশুকে দুধ খাওয়ানোর (ল্যাকটেশন) প্রক্রিয়াটিও আয়রনের ঘাটতি তৈরি করে।


খাদ্যাভ্যাস ও অপুষ্টি:

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, পরিবারের সবার খাওয়ার পর নারীরা অনেক সময় অবশিষ্ট খাবার খান, যেখানে পর্যাপ্ত পুষ্টি বা আয়রন থাকে না। প্রয়োজনীয় আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি-১২ এর অভাবেই মূলত হিমোগ্লোবিন কমে যায়।


কৃমির সংক্রমণ ও সচেতনতার অভাব:

পরিচ্ছন্নতার অভাবে শরীরে কৃমি প্রবেশ করলে তা রক্ত চুষে নেয়, যা আয়রনের ঘাটতি তৈরি করে।


নারীরা গৃহস্থালি কাজে বেশি ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের এই ছোট ছোট লক্ষ্মণগুলো অবহেলা করেন।


রক্তশূন্যতা দূর করতে যা করা জরুরি:

নারীদের এই ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন:


আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার: কচু শাক, পালং শাক, কলিজা, ডিম, কাঁচাকলা এবং ডালিম নিয়মিত খেতে হবে।


ভিটামিন সি: শরীরে আয়রন শোষণের জন্য লেবু বা টক জাতীয় ফল খেতে হবে।


সাপ্লিমেন্ট: গর্ভাবস্থায় বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করা যেতে পারে।


অতিরিক্ত চা-কফি পরিহার: খাওয়ার ঠিক পরপরই চা বা কফি পান করা উচিত নয়, কারণ এটি শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দেয়।


সূত্র : বিবিসি বাংলা

sidebar ad