চুলের যত্নে প্রকৃতির ছোঁয়া ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

ঘরোয়া উপাদান কতটা উপকারী, আর কোথায় প্রয়োজন সতর্কতা? চুলের যত্নে সবসময় দামি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। আমাদের রান্নাঘর ও ঘরের আশপাশে থাকা কিছু পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদানও চুলকে নরম, মসৃণ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়ক হতে পারে। 


তবে ‘প্রাকৃতিক’ শব্দটির সঙ্গে অন্ধ বিশ্বাস নয়,প্রয়োজন সচেতনতা।


নারিকেল তেল


চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে নারিকেল তেল বেশ জনপ্রিয়। চুলে তেল ব্যবহার করলে চুলের ঘর্ষণ ও কিছু ধরনের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমিয়ে রাখা ভালো নয়।



অ্যালোভেরা


অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে শীতল ও আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। শুষ্ক বা অস্বস্তিকর স্ক্যাল্পে অনেকে এটি ব্যবহার করেন। তবে সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।



মেথি


মেথি ভিজিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগানোর প্রচলন অনেক পুরোনো। এটি চুলকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ অনুভূত করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল পড়া বা নতুন চুল গজানোর চিকিৎসা হিসেবে শুধু মেথির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।



আমলকি


আমলকি চুলের পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি পরিচিত উপাদান। এতে ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমলকি দিয়ে তৈরি তেল বা হেয়ার প্যাক চুলের যত্নের রুটিনে রাখা যেতে পারে, তবে চুল পড়ার নির্দিষ্ট কারণ থাকলে চিকিৎসা প্রয়োজন।



দই ও মধু


দই ও মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক চুলকে কিছুটা নরম ও মসৃণ অনুভূত করতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক চুলে এটি কন্ডিশনিংয়ের মতো কাজ করতে পারে। তবে মাথার ত্বকে দীর্ঘসময় রেখে দেওয়া বা অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো।



শুধু বাইরে থেকে যত্ন নয়


চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে শরীরের ভেতরের পুষ্টি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিনসহ সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সবই গুরুত্বপূর্ণ।



আর যদি হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়তে শুরু করে, মাথার কোনো অংশ ফাঁকা হয়ে যায়, স্ক্যাল্পে চুলকানি বা ঘা হয়, তাহলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমাধানের চেষ্টা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



বিশেষজ্ঞের পরামর্শ


এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ডার্মাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট প্রফেসর ডা. হাসিবুর রহমান ত্বক, চুল ও নখের বিভিন্ন সমস্যা এবং কসমেটিক ডার্মাটোলজিতে অভিজ্ঞ। তার পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি চুলের বিভিন্ন রোগের ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করেন।


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নারিকেল তেল, অ্যালোভেরা, আমলকি বা মেথির মতো উপাদান চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করা গেলেও এগুলো দিয়ে চুল পড়ার মূল কারণ সবসময় দূর করা সম্ভব নয়।


অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে প্রদাহ, খুশকি, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা নির্দিষ্ট জায়গায় চুল উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয় জরুরি।



আরেকজন চুল ও ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. রুবাইয়া আলি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ডার্মাটোলজি ও ভেনেরোলজি, চুলের রোগ ও হেয়ার ডিজঅর্ডার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইলে চুল ও নখের রোগের চিকিৎসা এবং হেয়ার ডিজঅর্ডার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের উল্লেখ রয়েছে।


তাই চুলের যত্নে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো নিজের স্ক্যাল্প ও চুলের ধরন বুঝে পরিচর্যা করা, নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।


প্রকৃতি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। চুলের যত্নেও তার ছোঁয়া থাকুক,তবে সৌন্দর্যের সঙ্গে থাকুক সচেতনতাও।

sidebar ad