মেনোপজের এই ৫ বিষয় জানেন তো?

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মেনোপজ নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে এর দেখা মেলে। তবে সবার অভিজ্ঞতা একরকম নয়। মেনোপজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয় জেনে রাখুন—



১. মেনোপজ মানেই হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়: মেনোপজের আগে কয়েক বছর ধরে ‘পেরিমেনোপজ’ পর্যায় চলতে পারে। এ সময় মাসিকের তারিখ ও রক্তপাতের পরিমাণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। টানা ১২ মাস মাসিক না হলে সাধারণত সেটিকে মেনোপজ হিসেবে ধরা হয়।



২. শুধু গরম লাগাই মেনোপজের লক্ষণ নয়: হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া পরিচিত লক্ষণ হলেও এর পাশাপাশি রাতে ঘাম, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন, মনোযোগ বা স্মৃতিতে সমস্যা, মাথাব্যথা, জয়েন্ট ও পেশিতে ব্যথা এবং যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও হতে পারে।



৩. যোনিপথের শুষ্কতা ও প্রস্রাবের সমস্যাও হতে পারে: মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যোনিপথ শুষ্ক, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তিকর হতে পারে। কারও কারও প্রস্রাবের সমস্যা বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এসব সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।



৪. মেনোপজের পর হাড় ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি: মেনোপজের পর হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।



৫. সব উপসর্গ সহ্য করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই: মেনোপজ স্বাভাবিক হলেও এর উপসর্গ যদি দৈনন্দিন জীবন, ঘুম বা মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। জীবনযাপনে পরিবর্তন, নন-হরমোনাল চিকিৎসা বা কিছু ক্ষেত্রে হরমোনভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।



মেনোপজের পর ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর আবার যোনিপথে রক্তপাত বা রক্তের দাগ দেখা দিলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



তথ্যসূত্র: National Institute on Aging (NIA), NHS.

sidebar ad