ডেঙ্গুতে জ্বর, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব ও ক্ষুধামন্দার কারণে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই ডেঙ্গুর চিকিৎসার বিকল্প নয় বা নিশ্চিতভাবে প্লাটিলেট বাড়ানোর প্রমাণিত উপায় নয়।
১. ডাবের পানি
ডেঙ্গুতে জ্বর ও ঘামের কারণে শরীর থেকে তরল ও ইলেকট্রোলাইট কমে যেতে পারে। ডাবের পানি তরল ও কিছু ইলেকট্রোলাইট সরবরাহ করতে পারে। তবে শুধু ডাবের পানির ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরলও গ্রহণ করতে হবে।
২. স্যুপ ও পাতলা ঝোল
সবজি, ডাল বা মুরগির পাতলা স্যুপ সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে তরল ও কিছু পুষ্টি সরবরাহ করে। ক্ষুধা কম থাকলেও অল্প অল্প করে খাওয়া যেতে পারে।
৩. ডিম
ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি রয়েছে। ডেঙ্গুর সময় শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং স্বাভাবিক পুষ্টি বজায় রাখতে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম খাওয়া যেতে পারে।
৪. কলা ও অন্যান্য সহজপাচ্য ফল
কলা, পাকা পেঁপে, কমলা বা পেয়ারা—সহনীয় হলে এসব ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। এগুলো থেকে ভিটামিন, খনিজ ও কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। তবে কোনো ফলকে ‘প্লাটিলেট বাড়ানোর ওষুধ’ হিসেবে মনে করা ঠিক নয়।
৫. ভাত, খিচুড়ি বা অন্যান্য সহজপাচ্য খাবার
ডেঙ্গুতে শরীরের শক্তির চাহিদা থাকে। তাই সহ্য হলে ভাত, খিচুড়ি, আলু, রুটি ইত্যাদি সহজপাচ্য খাবার নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। সঙ্গে প্রোটিনের উৎস ও সবজি রাখলে খাবারটি আরও সুষম হয়।
শুধু প্লাটিলেট নয়, সতর্ক থাকুন
ডেঙ্গুতে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখেই রোগীর অবস্থা বিচার করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে রক্তের পরীক্ষা ও শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
ডেঙ্গুতে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: World Health Organization (WHO), Centers for Disease Control and Prevention (CDC)