বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ত্রিশ শতাংশ তবু হেরে যাননি সোনালী বেন্দ্রে

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬

বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ত্রিশ শতাংশ তবু হেরে যাননি সোনালী বেন্দ্রে

ইশরাত জাহান ইনা


২০১৮ সালের জুলাই। বলিউড অভিনেত্রী সোনালী বেন্দ্রে হঠাৎই জানালেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। সবকিছুর শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা দিয়ে। কিন্তু সেই ব্যথার কারণ খুঁজতে গিয়ে যে সত্য সামনে এলো, তা যেন মুহূর্তেই বদলে দিল তার পুরো জীবন।


পরীক্ষার রিপোর্টে জানা গেল, ক্যানসার ইতোমধ্যেই শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কের চিকিৎসকরা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে যে কথাটি বলেছিলেন,সেটি শুনে যে কেউ ভেঙে পড়তে পারত। আপনার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ত্রিশ শতাংশ।


সোনালী পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার স্বামী গোল্ডি বেহল এবং চিকিৎসকদের মুখের অভিব্যক্তিই বুঝিয়ে দিয়েছিল,সামনে কতটা কঠিন পথ অপেক্ষা করছে।


কিন্তু তিনি কান্নার কাছে হার মানেননি।ভয়কে সঙ্গী করেই শুরু করেছিলেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ।


চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিউইয়র্কে যান।বড় একটি অস্ত্রোপচার, তারপর একের পর এক উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি, প্রতিটি দিন ছিল অসহ্য যন্ত্রণার। কেমোথেরাপির কারণে যখন একমুঠো একমুঠো চুল ঝরে পড়তে শুরু করল, তখন তিনি অপেক্ষা করেননি। 


নিজের হাতেই কেটে ফেললেন সব চুল।ন্যাড়া মাথার সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন হাসিমুখে।ছবিটি ছিল শুধু একটি ছবি নয় এটি ছিল ভয়কে হার মানানোর, জীবনকে নতুন করে আলিঙ্গন করার এক সাহসী ঘোষণা।


সোনালী অকপটেই স্বীকার করেছেন, ক্যানসারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তিনি ভাগ্যবান ছিলেন, কারণ আর্থিক সামর্থ্য থাকায় বিশ্বের সেরা চিকিৎসা দ্রুত নিতে পেরেছিলেন।


কিন্তু সবাই তো সেই সুযোগ পান না। দীর্ঘ চিকিৎসার কঠিন দিনগুলোতে নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে তিনি বইয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন।


 "Sonali's Book Club (SBC)"এর মাধ্যমে পাঠকদের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। বই, পাঠক আর ইতিবাচক চিন্তাই তাকে বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে অনেকটা দূরে রেখেছিল। চতুর্থ পর্যায়ের মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর রোগের সঙ্গে লড়ে আজ তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন,লাখো মানুষের সাহসের প্রতীক।


এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তিনি নারীদের উদ্দেশে একটি গভীর বার্তা দিয়েছেন ক্যানসারের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল, খুব কষ্টের। আমি ভাগ্যবান যে চিকিৎসা করাতে পেরেছি।


তাই আমি প্রতিটি নারীকে বলব, নিজের আর্থিক স্বাধীনতা গড়ে তুলুন। আপনি কার স্ত্রী,কার মেয়ে বা কার পরিবারের সদস্য সেটি নয়, কঠিন সময়ে নিজের উপার্জনই আপনার সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


এই কথাগুলো শুধু অর্থের গল্প নয়, আত্মমর্যাদার গল্প। আত্মনির্ভরতার গল্প। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার গল্প।


সোনালী বেন্দ্রের লড়াই আমাদের শেখায়,অন্ধকার যত গভীরই হোক,আশা কখনো নিভে যায় না। সাহস,মানসিক শক্তি আর আত্মনির্ভরতা থাকলে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধও জেতা সম্ভব।


জীবন বারবার পরীক্ষা নেবে,কিন্তু হাল না ছাড়ার সিদ্ধান্তটাই আমাদের সবচেয়ে বড় জয়।



তথ্যসূত্র: ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

sidebar ad