বলিউডে নিজের অভিনয়ের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন রাধিকা আপ্তে। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে বারবারই দর্শকদের চমকে দিয়েছেন তিনি। কখনো সাহসী চরিত্র, কখনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য—পর্দায় চরিত্রের প্রয়োজনে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। তবে সেই অভিজ্ঞতাই যে সব ধরনের দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সম্মতির অর্থ নয়, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাধিকা।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কয়েকটি সিনেমায় পুরোপুরি নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। সেই অভিজ্ঞতার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিছু মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, অভিনেত্রী হয়তো যেকোনো ধরনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম জুমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন চার-পাঁচটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তাঁকে সম্পূর্ণ নগ্ন হতে হয়েছিল। এরপর কিছু মানুষ ধরে নিয়েছিলেন, তাঁকে যেকোনো ধরনের দৃশ্যের প্রস্তাব দিলেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন।
রাধিকার কথায়, একসময় কয়েকজন এমনভাবে আলোচনা করেছিলেন—তিনি যেহেতু আগেও এ ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, তাই ভবিষ্যতেও হয়তো আপত্তি করবেন না। তখন তাঁকে স্পষ্ট করে বলতে হয়েছিল, আগের অভিজ্ঞতা মানেই ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রস্তাবে সম্মতি নয়।
অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতার তালিকায় রয়েছে আরও অস্বস্তিকর কিছু প্রস্তাবও। অন্তর্বাস পরে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করতেই হয়েছে তাঁকে। রাধিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে, একজন অভিনয়শিল্পী কোনো একটি চরিত্রে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছেন বলেই যে পরবর্তী সব ধরনের প্রস্তাবে তাঁর সম্মতি থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান বদলেছেন রাধিকা। এখন কোনো পরিচালক তাঁকে চুম্বন কিংবা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি সরাসরি জানতে চান, গল্পে সেই দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা কতটা।
অভিনেত্রীর মতে, শুধু দৃশ্যটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা কিংবা দর্শকের মনোযোগ কাড়ার জন্য ঘনিষ্ঠতা দেখানোর প্রয়োজন নেই। বরং চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে সেই দৃশ্যের সম্পর্ক কী, সেটিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
রাধিকা বলেন, এখন তিনি আরও বেশি প্রশ্ন করেন। নির্মাতাদের কাছে জানতে চান—কেন তাঁরা এমন দৃশ্য রাখতে চাইছেন এবং গল্প বলার ক্ষেত্রে সেটির ভূমিকা কী।
অভিনয়জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্ভবত তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে একজন অভিনেত্রী হিসেবে হয়তো চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে নানা ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। কিন্তু এখন নিজের কাজের ক্ষেত্রে কোন দৃশ্য কতটা প্রয়োজনীয়, সেই সিদ্ধান্তে নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
রাধিকার এই বক্তব্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলে না, চলচ্চিত্রে অভিনয়শিল্পীর সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং দৃশ্যের যৌক্তিকতা নিয়েও নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি করে। পর্দায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা আর সব ধরনের প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া—দুটি যে এক বিষয় নয়, নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেটিই স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী।
চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী হতে আপত্তি নেই রাধিকার। তবে সেই সাহসেরও একটি প্রেক্ষাপট থাকা জরুরি—গল্পে তার প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে। আর সেই প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকারও একজন অভিনয়শিল্পীর আছে—রাধিকার সাম্প্রতিক বক্তব্যে যেন সেই বার্তাই আরও একবার সামনে এলো।