আজ ১৩ বছর পর দাঁড়িয়ে বলতে পারি, রোদসী সেই স্বপ্নের পথেই হেঁটেছে।
এই যাত্রা কখনো সহজ ছিল না। প্রিন্ট মিডিয়ার পরিবর্তন, বিজ্ঞাপন বাজারের সংকোচন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর—সবকিছুর মধ্যেও আমরা টিকে আছি। কারণ রোদসীর ভিত্তি ব্যবসার চেয়েও বড় একটি দর্শনের উপর নির্মিত।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমাজকে বদলাতে হলে নারীর কণ্ঠকে শক্তিশালী করতে হবে। পরিবারকে শক্তিশালী করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধকে সামনে আনতে হবে। আর গণমাধ্যমকে হতে হবে দায়িত্বশীল, ইতিবাচক ও প্রভাবসৃষ্টিকারী।
গত ১৩ বছরে রোদসী হাজারো মানুষের গল্প বলেছে। সংগ্রামের গল্প, সাফল্যের গল্প, সম্পর্কের গল্প, পরিবর্তনের গল্প। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি বিভাজনের নয়, সংযোগের ভাষা তৈরি করতে।
কিন্তু আমি মনে করি, রোদসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখনো সামনে।
আগামী দিনে রোদসীকে আমি শুধু একটি ম্যাগাজিন হিসেবে নয়, একটি শক্তিশালী জ্ঞান, নেতৃত্ব ও সামাজিক প্রভাবের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাই।
আমাদের লক্ষ্য—
* নারীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা
* নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী ও পরিবর্তনসৃষ্টিকারীদের সংযুক্ত করা
* নীতি-সংলাপ, গবেষণা ও সচেতনতা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা
* ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা
* বাংলাদেশ ও বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি বিশ্বস্ত কনটেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা
আমি বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়; সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা, সংযোগ ও নেতৃত্ব তৈরি করাও তার দায়িত্ব।
রোদসীর ১৩ বছরের এই যাত্রায় যাঁরা পাশে ছিলেন—পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, সহকর্মী এবং বন্ধু—সবার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
নতুন অধ্যায়ের পথে আমরা এগিয়ে চলেছি।
রোদসী—তোমার প্রতিচ্ছবি, সমাজের কণ্ঠস্বর, আগামী দিনের সম্ভাবনা।
— সাবিনা ইয়াসমীন
সম্পাদক ও প্রকাশক, রোদসী