বাংলাদেশের প্রশাসনে নারী নেতৃত্ব এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ধারায় পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাকে আরও দৃঢ় করেই ফাহমিদা আখতারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা এই নতুন দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই নিয়োগের একটি বিশেষ দিক হলো—এই একই মন্ত্রণালয়ের আগের সচিবও ছিলেন একজন নারী, নাসরিন জাহান। তিনি এখন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ, নেতৃত্বের এই আসনে এক নারী থেকে আরেক নারীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়েছে—যা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, নারী নেতৃত্ব এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং এটি একটি স্থিতিশীল বাস্তবতা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সক্ষমতা ও দক্ষতার উপর আস্থা তৈরি হয়েছে, এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর নেতৃত্বে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৈদেশিক আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকা মানে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হওয়া।
নতুন সচিব হিসেবে ফাহমিদা আখতারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিমান খাতের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। তবে একইসঙ্গে রয়েছে নতুন সম্ভাবনাও—নতুন পর্যটন গন্তব্যের বিকাশ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, এবং সেবার মানোন্নয়ন।
সবচেয়ে বড় কথা, এই ধারাবাহিক নারী নেতৃত্ব একটি শক্ত বার্তা দেয়—যোগ্যতা ও দক্ষতার জায়গায় নারীরা এখন প্রতিষ্ঠিত। তারা শুধু অংশগ্রহণ করছে না, বরং ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সেই নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রশাসনে এই ধরনের পরিবর্তন কেবল একটি নিয়োগ নয়; এটি একটি ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন—যেখানে নেতৃত্বের মানদণ্ড নির্ধারিত হচ্ছে দক্ষতা দিয়ে, লিঙ্গ দিয়ে নয়।
সাবিনা ইয়াসমীন
সম্পাদক, রোদসী