সন্তান আমাদের হৃদয়ের সবচেয়ে কোমল জায়গা। তাদের ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন বোনা, প্রত্যাশা আর থাকে গভীর ভালোবাসা।কিন্তু বর্তমান টিনেজদের অবস্থা দেখে রাগের চাইতেও দুঃখ বেশি হয়। এর অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ও ডিভাইসের ব্যবহার, মা-বাবার সাথে সঠিক বন্ডিং এর অভাব, পুরো ধ্বংস করার মত একটা অবস্থা হচ্ছে দিনকে দিন এই টিনেজদের।
একটা সময় হঠাৎ খেয়াল করলেন ছেলেটা কেমন যেন বেয়াংরা হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা যেন কোন কথার পাত্তা দিচ্ছে না।
বাবা মায়েরা হতাশ কন্ঠে তখন বলতে থাকেন "আমার বাচ্চাটা আমার কথা শোনে না "এটা নতুন কোন অভিযোগ নয়। কমবেশি মা বাবারই এই একটা কমন অভিযোগটি করে থাকেন।
এই অভিযোগের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক না বলা কথা ভুল বোঝাবুঝি আরো কিছু অজানা কারণ সন্তান কথা শুনছে না,
তার মানে এই নয় সে খারাপ হয়ে যাচ্ছে বরং এটি তার বেড়ে ওঠারই স্বাভাবিক একটি ধাপ একে বয়সন্ধিকাল বলে।
এই প্রী-টিন বা টিনেজ বয়সী বাচ্চাদের সাথে প্যারেন্টিং এর সিস্টেম বদলাতে হবে, এই বিষয় ভুলে যান।
এখন প্রশ্ন হল আমরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবো।
আপনার নাড়ি ছেড়া ধন যখন কথা না শোনে তখন ইচ্ছে করে, যেন কান টেনে ছিড়ে ফেলি, তাই না?
দাড়ান এখানেই থামুন।
যুগ পালটেছ, জীবন ধারা পাল্টেছে।শাসনের ধারাও পাল্টান।
আদরের সন্তান কে নিয়ন্ত্রণ করার চেস্টা না করে বরং নিজেকে কিছুটা পরিবর্তন করুন।
দৃস্টিভংগি বদলান।
কিছু ট্রিক্স এপ্লাই করুন।
রাগ, শাসন আর চাপ নয়,বরং বোঝাপড়া আর ভালবাসা দিয়ে সমস্যা হ্যান্ডেল করার অভ্যাস করুন। এতেই আপনার আর সন্তানের মাঝে যে স্ট্রং বন্ডিং তৈরী হবে আপনার আর নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন ই হবে না।
কী সেই জাদুর কৌশল?
সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার উপায়-
*প্রথমত একটা সেইফ স্পেস গড়ে তুলুন নিজেদের মধ্যে। কথা কম বলুন।শুনতে অভ্যাস করুন। কম বলায় সে একটি স্পেস পাবে। তার নিজের কথা আপনাকে বলার সুযোগ করে দিন। অর্ধেক কথা শুনেই কখনো জাজ করতে যাবেন না।
কথার মাঝে উপদেশ দিতে যাবেন না পুরো কথাটা ধৈর্য সহকারে শুনুন। ভুল হলেও তাকে সরাসরি
"তুমি ভুল"এটা না বলে বলুন "এটা আরেকটু ভালো করা যেত।
"তোমার বয়সে আমি অমুক তমুক ছিলাম।
হ্যাং ত্যাং করতাম ভুলেও এসব বলতে যাবেন না। বাচ্চারা ঠিক তখনই শাটডাউন হয়ে যায়।
আপনি তাকে বিচার করে ফেলেছেন এটা বুঝতে পেরে সে আর তার কথা আগে বাড়ায় না।
কি করবেন?
লেকচার কম দিন।মন দিয়ে শোনার অভ্যস্ত হয়ে যান।বাচ্চারা চায় প্যারেন্টস তাকে বুঝুক তারপরে তাকে জাজ করুক। প্রবলেম শুনেই আগেই সলিউশন দিতে যাবেন না। আপনার বাচ্চাকে বুঝুন সে নিজেকে আপনার সামনে প্রুফ করতে চাচ্ছে।
তাকে মেন্টালি সাপোর্ট করুন ।
" তুমি কী ফিল করছো?"
বা তুমি এখন কি করতে চাও"?
তার অনুভূতি শুনুন।
"বেশি চাপ নিও না "
এমন সাপোর্টিভ বাক্য ব্যবহার করুন। এই একটা কথায় ওকে হালকা হতে সাহায্য করবে আর আপনার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে রাস্তা তৈরি করে দেবে।
*দ্বিতীয়তঃ সন্তানের সাথে খোলামেলা সম্পর্ক একদিনের বিষয় না।প্রতিদিন ছোট ছোট কাজ একসাথে করার অভ্যাস করতে হবে। যেমন-একসাথে খাওয়া,খাবার খাইয়ে দিতে দিতে গল্প করা,ছোট খাটো কাজে বাজারে বা দোকান ঘাটে সাথে নিয়ে যান।কেনাকাটা শিখান আর আপনার উপর চাপ টা কমাতে তার সাহায্য চান।
তার পছন্দের হিরোর মুভি দেখতে যেতে পারেন অথবা ফেভারিট কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে পারেন।
রোজকার এই কাজ গুলো একদিন অভ্যাস এ পরিনত হবে আর আপনাদের মাঝে একটা ডেইলি মাইক্রো কানেকশন তৈরি হবে।
"তৃতীয়ত :
খোলা জানালার মত হয়ে যান।যেখানে দাড়িয়ে আপনার সন্তান নিজের ব্যার্থতা,সেনসিটিভ টপিক রিলেশনশীপ অযোগ্যতা না পারা সব বিষয়ে আপনাকে খোলাখুলি বলবে।
তাকে ওপেন স্পেস করে দিন যাতে করে নির্ভয়ে নিঃসংকচে আপনার সাথে সবকিছু শেয়ার করতে পারে।মুখে নয় বাস্তবে এটা করে দেখাতে হবে। এখানে যদি আপনি চেচামেচি করে, কোন ইস্যুতে বকাঝকা রাগারাগি করেন সেটা হীতে বিপরীত হয়ে যাবে। কারণ আপনার সন্তান তখন বাইরে কাউকে বন্ধু বানাতে শুরু করবে আর তার কাছেই গোপনীয় সমস্ত বিষয় শেয়ার করবে।
এটাই এক সময় কাল হয়ে দাঁড়াবে।
মুখের ভাষার টোন পরিবর্তন করুন "তুমি এটা পারবে না "।
না বলে বলুন এটা আরেকটু ভালো করা যেত। " তোমাকে দ্বারা হবে না "বলুন "চেষ্টা করো"।
কন্ট্রোল নয় গাইড করুন সলিউশন নয় সাজেশন দিন।
তাকে সিদ্ধান্ত নিতে শিখান। নিজ সিদ্ধান্তে সে তার ত্রুটি নিজেই খুঁজে পাবে।
পড়াশোনা বনাম মানসিক চাপ:
আজকালকার লেখাপড়ার সিস্টেমটাই এমন ভাবে সেট হয়েছে যে বাচ্চারা সৃজনশীল প্র্যাকটিস করতে বাধ্য হয়ে পরেছে। যাতে ওদের উপর বই মুখস্ত করার চাপ এসে পরেছে।
এই পড়াশোনা চাপের পাশাপাশি মানসিক চাপ প্রতিযোগিতা।
দুটো না পেরে সন্তানটি হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে চিৎকার চেচামেচি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে ফেলছে।তখন রিয়েক্ট না করে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। তার ইমোশনাল কন্ডিশন টা বুঝুন।
প্রত্যেক টা বাচ্চার নিজস্ব পছন্দ, দক্ষতা আর স্বপ্ন আছে তাকে সেই জায়গাটা দিন।
মনে রাখবেন আপনার সন্তান আপনার ইমোশনাল ডাস্টবিন নয়।
তার উপর এমন কিছু চাপিয়ে দেবেন না যেটা তার পছন্দ ই না। আমি ডাক্তার হতে পারিনি তাই আমার সন্তান সেই স্বপ্ন পুরন করবে।
তার হয়তো ইচ্ছা পাইলট হবার আকাশ ছোয়ার।
তার ইচ্ছে কে প্রাধান্য দিন।
ফলাফল নিজেই দেখবেন সন্তানের সাফল্য।
তাই পড়াশোনা যেন ওর কাছে চাপ মনে না হয় বরং ভাল লাগার মতো বিষয় বেছে নিতে ওকে সাহায্য করুন।পাশাপাশি ওর মানসিক সাস্থ্যের উপর নজর দিন। প্রফুল্ল মন একটি সন্তানের নৈতিক অধিকার।
*ডিজিটাল আসক্তি এবং বাবা মায়ের করনীয় :
ডিজিটাল আসক্তির এখন আর শুধু বাচ্চারা নয় বড় রা ও আসক্ত।
এটা একটা অভ্যাস নয়, এটা আস্তে আস্তে গোটা পরিবার কে নীরব সংকট এর মুখে ফেলে দিচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু কিশোর দের ক্ষেত্রে এই আসক্তি আরও গভির ভাবে প্রভাব ফেলছে যা অনেক সময় মা বাবারা বুঝতেই পারছেন না।পড়াশোনা, বিনোদন, এমনকি একাকিত্ব কাটানোর জন্য ও তারা স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরছে।আমরাই করে দিচ্ছি তাকে এই মারাত্মক ভয়াবহ সংকটের উপর নির্ভরশীল।আজকাল বাচ্চা জন্মের পর থেকে মোবাইল, ট্যাব আর ইন্টারনেট এর সাথে ই বড় হচ্ছে।কারন
মা বাবা রা ব্যাস্ত।
কিছু মা বাবা রা বিলাসী জীবন উপভোগ করানো শেখানো র জন্য এটা করে থাকেন। তারা বুঝতে পারে না এই আসক্তি ধীরে ধীরে তাদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়।সামাজিক দক্ষতা দুর্বল করে দেয় এবং বাস্তব জীবনের সম্পর্ক দূরে ঠেলে দেয়।
কিভাবে?
কিছুক্ষণের জন্য মোবাইল বা গেম থেকে তাকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন দেখবেন সে অস্থির হয়ে গিয়েছে, রাগ দেখাচ্ছে এমনকি চিতকার করে জিনিস পত্র ভেংগে ফেলছে।
এটাই বাবা মায়ের জন্য ওয়ার্নিং সাইন।
আপনার সন্তান মারাত্মক বিপদে।
বাস্তব জীবনের চেয়ে তারা ভার্চুয়াল জীবনে এখন স্বাচ্ছন্দ বোধ করে বেশি।আর এটাই তার মানসিক সমস্যা র প্রথম ও প্রধান লক্ষন।
কি করবেন?
এখানেই মা বাবার ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, ডিভাইস আটকে রেখে,বকাবকি মারামারি না করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কখনো সম্ভব নয়। বরং উল্টো এতে আপনার সন্তান আরও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে।
এখন প্রয়োজন বোঝাপড়া আর আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
সে কেন সারাদিন মোবাইলে কারন খুজুন।
সে কি একাকি বোধ করে?
নাকি কোন চাপের উপর আছে?
নাকি পারিবারিক অশান্তি থেকে পালিয়ে বাচতে ডিভাইসের আশ্রয় নিয়েছে?
দ্বিতীয়ত,বাবা মা নিজেরাই যদি মোবাইলের আসক্ত হয়ে থাকে তাহলে সন্তানের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বাবা মাকে দেখেই সে এই আসক্তি তে ডুবে যাচ্ছে।
এটাই স্বাভাবিক।
তাই পরিবারে" নো ফোন টাইম"নিয়ম চালু করা যেতে পারে। একটা সময় সবাই মিলে গল্প আর কাজ করে কাটান।টোটালি অফলাইনে। গাছ পরিচর্যা করুন,একোরিয়ামে মাছ পালুন ইত্যাদি।
তৃতীয়ত,বিকল্প আনন্দের পথ খুজে বের করুন।খেলাধুলা করুন মাঠে নিয়ে যান,গান শিখান সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
এসব ছোট ছোট মুহুর্ত তাকে বাস্তব জীবনের প্রতি আকৃস্ট করবে।
কারণ যে কোন আসক্তির পেছনে থাকে মা বাবার সময় আর যত্নের অভাব।
তারা হয়তো একটু পাশে বসে কথা বলার মানুষের অভাবে স্ক্রিনে র আশ্রয় নিয়েছে।
ডিজিটাল দুনিয়া থেকে আপনার সন্তান কে দূরে রাখা সম্ভব নয় কিন্তু দরকার ও নেই।বরং তাকে এর সঠিক ও উপকারী ব্যাবহার সম্পর্কে শেখান।ডিভাইস জীবনের সহায়ক নিয়ন্ত্রক নয় এটা শেখান।এটাই আপনার একমাত্র করনীয়।
ব্যালেন্স সে নিজেই শিখে যাবে।
কিশোর বয়সের আচরণ বুঝবেন কিভাবে :
কিশোর বয়সের আচরণ বুঝতে হলে প্রথমে ধৈর্য ধরতে হবে। এই সময়টায় তারা দ্রুত মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, তাই হঠাৎ রাগ, একাকীত্ব বা অতিরিক্ত রিয়াকশন দেখানোটা স্বাভাবিক। তাদের কথা মন দিয়ে শুনুন, সাথে সাথে জাজ না করে বোঝার চেষ্টা করুন।ওদেরকে বুঝুন
নিজেকে দিয়ে,আপনার এই বয়সে কেমন ফিল হতো। বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলুন, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের কথা বলতে পারে। বাইরে বন্ধু গড়ে ফেললে বিপদ।
আচরণের পেছনের কারণ খুঁজুন—চাপ, ভয় বা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
হতে পারে নিজের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সংকিত।খোলামেলা আলোচনা গল্পের মত করে এই পরিবর্তনের বিষয় টা বুঝিয়ে বলুন।
নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে যুক্তি দিয়ে বুঝান। উদাহরণ দিন চারপাশের বাস্তবতা দিয়ে।সবচেয়ে জরুরি হলো ভালোবাসা, সময় ও সম্মান দেওয়া।মনে রাখবেন প্রতিটি বাচ্চার আত্নসম্মান এই বয়সেই গ্রো করে।
—এগুলোই কিশোরদের সঠিক পথে রাখার মূল চাবিকাঠি।
সন্তানের আত্নবিশ্বাস গড়ে তোলার বাস্তব পদ্ধতি :
সন্তানের আত্মবিশ্বাস তৈরি করা কোনো একদিনের কাজ না।
এটা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে।
ঠিক যেমন একটা গাছ যত্ন করে বড় করতে হয়।
কথা হলো, শুধু
“তুমি পারবে” বললেই হবে না, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখান থেকে সে সত্যিই মনে করে"আমি পারি"।একটু চেস্টা করলেই পারবো।
প্রথম জায়গাটা আসে গ্রহণযোগ্যতা থেকে। আপনি তাকে কেমন করে দেখছেন বা নিচ্ছেন। সন্তান যেমনি হোক, তাকে তেমনভাবেই মেনে নেওয়া খুব জরুরি।
সব সময় তুলনা "ওর ছেলে পারে,
তুমি পারো না"
এই কথাগুলো আত্মবিশ্বাস গুড়িয়ে দেয়। বরং তার ছোট ছোট চেষ্টাগুলোকে মূল্য দিন। বাহবা দিন।
সে চেষ্টা করেছে এটাই বড় কথা।
দ্বিতীয়ত, ভুল করছে করুক। সুযোগ দিন। অনেক বাবা-মা চান সন্তান কখনো ভুল না করুক, একদম পারফেক্ট হোক।এটা সম্ভব নয়। আপনি আমি কেউ ই পারফেক্ট নই।
বাস্তবতা হলো ভুলই শেখার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। যখন সে ভুল করবে, তখন বকা না দিয়ে তাকে বুঝতে সাহায্য করুন কোথায় ঠিক করা যায়। তার ভুল তাকেই খুজে বের করে আনতে বলুন।এতে সে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করতে সাহস পাবে।আত্নবিশ্বাসী হবে।
তৃতীয়ত, দায়িত্ব দিন। বয়স অনুযায়ী ছোট ছোট দায়িত্ব যেমন নিজের ব্যাগ গুছানো, পানি নিয়ে আসা, কোনো কাজ সম্পন্ন করা এসব তাকে নিজের উপর ভরসা করতে শেখায়।
দায়িত্ব পালন শেখান।
কাজ শেষ করতে পারলে তার ভেতরে এক ধরনের “আমি পারি” অনুভূতি তৈরি হয়। সাথে দায়িত্ব বোধ টা ও আসবে।
চতুর্থত, কথা বলার জায়গা তৈরি করুন। অনেক সময় সন্তান নিজের ভয়, লজ্জা বা দ্বিধা বলতে পারে না। আপনি যদি তার নিরাপদ জায়গা হন, যেখানে সে কনফিউজড না হয়ে কথা বলতে পারে।
তাহলেই তার ভেতরের শক্তিটা বের হয়ে আসবে।
পঞ্চমত, প্রশংসা করুন এপ্রিশীয়েট করুন।
শুধু "তুমি ভাল" না বলে বলুন
"তুমি আজ যেভাবে চেষ্টা করেছ, সেটা দারুণ ছিল"। এতে সে বুঝবে তার পরিশ্রমই আসল শক্তি, শুধু ফলাফল না।
সবশেষে, নিজের আচরণ খেয়াল করুন। আপনি যদি সবসময় ভয় পান, হাল ছেড়ে দেন, বা নিজেকে ছোট করেন,সন্তান সেটাই শিখবে। বাইরে যাওয়া যাবে না হারিয়ে যাবে বিপদে পরবে এই ভেবে ঘরে আটকে রাখলে তার পরিনতি ও ভাল হবে না।
নিজেকে প্রোটেক্ট করাও শিখাতে হবে।
আপনি যদি দৃঢ় থাকেন, চেষ্টা করেন, ব্যর্থতা সামলে এগোন
সে সেটাই অনুসরণ করবে।
সন্তানের আত্মবিশ্বাস আসলে তার ভেতরে জন্মায় না।ওটা ধীরে ধীরে তৈরি হয় আপনার আচরণ,সাপোর্ট, সময় আর ভালোবাসার মাধ্যমে।
আপনি তার পাশে থাকলে, সে একসময় নিজেই নিজের পাশে দাঁড়াতে শিখে যাবে।
ইশরাত জাহান ইনা