ছোট ঘরকে বড় দেখাতে চান? সামান্য কিছু কৌশল জানা থাকলেই আপনার থাকার জায়গাটিকে বড় করে উপস্থাপন করতে পারেন। আলোর তারতম্যতা, কালারের সামঞ্জস্যতা, আসবাবপত্রের বিন্যাস; বিভিন্ন উপায়ে সংকীর্ণ জায়গা হয়ে উঠবে আরামদায়ক ও খোলামেলা। আর এইসব কিছু নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
ঘর শুধুমাত্র ইট-কাঠ দ্বারা নির্মিত এক নিষ্প্রাণ কাঠামো নয়। এটা হলো ভালোবাসা, আশা ও স্বপ্নের আশ্রয়স্থল, যা মানুষের হৃৎস্পন্দনে তৈরি হয়।পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা ঘর দেখে চোখ এবং মনে শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানের ঘরগুলোর স্থান সংকুলান হওয়াতে মনের মতো করে সাজানো সম্ভব হয়ে উঠেনা। বিশেষ করে বেড়ে উঠা ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ছোট স্পেসে সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মতো মনে হয়।এ সব কিছুরই সমাধান রয়েছে। কিছু বিষয় মাথায় রেখে সে হিসেবে সাজাতে পারলে আপনার ছোট ঘর হয়ে যাবে প্রশস্তময়। নিচে এমন ৭টি কার্যকর ট্রিকস দেয়া হলো-
অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলাঃ
ছোট জায়গাটিকে আরও প্রশস্ত দেখানোর সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজ উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা। আমাদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমা করে রাখার একটি প্রবণতা রয়েছে। কম জিনিস মানেই বেশি জায়গা। তাই অতিরিক্ত জিনিসপত্র থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে কোন জিনিসটা দরকার, আর কোনটা নয় তা আলাদা করে নিতে হবে। দরকারি জিনিসগুলো সাজিয়ে রেখে বাকিগুলো সরিয়ে দিন। ব্যস। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেওয়ার প্রথম ধাপই কমপ্লিট।
রঙের ব্যবহারঃ
এবার আসি দেয়ালের রঙের প্রসঙ্গে।ছোট ঘরের জন্য রঙ একটা বড় ফ্যাক্টর যেটা আপনার স্পেসকে ছোট বা বড় দেখাতে পারে। তাই সঠিক দেয়ালের রঙ বাছাই করাটা খুবই জরুরী। ছোট ঘরের দেয়ালের জন্য অবশ্যই কোন হালকা রঙ বা লাইট শেইড বাছাই করতে হবে। এক্ষেত্রে সাদা, অফ হোয়াইট, বেবি পিংক কিংবা প্যাস্টেল কালার হবে আদর্শ। হালকা রঙের দেয়ালে আলো বেশি প্রতিফলিত হয়ে ঘর আরো বড় এবং উজ্জ্বল দেখায়।
আয়নার কৌশলগত ব্যবহারঃ
এটি খুবই ট্রিকি একটি ব্যাপার। কিন্তু সঠিক জায়গায় এটি ব্যবহার করতে পারলে ঘরের আয়তন বড় দেখাতে অনেকাংশে সাহায্য করবে। ডাইনিং এরিয়া কিংবা লিভিং রুমের দেয়ালে একটি বড় আয়না টাঙ্গাতে পারেন। ঘরের আলো ভালোভাবে প্রতিফলিত হওয়ার পাশাপাশি জায়গাটাও বড় দেখাবে। এছাড়াও জানালার বিপরীতে রাখলে প্রাকৃতিক আলো দ্বিগুণ হয়ে ঘরকে বড় দেখাবে। তবে আয়নাযুক্ত কাঁচের আসবাবপত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে কারণ এটি চারপাশে থাকা জিনিসের প্রতিফলন ঘটিয়ে ঘরকে অগোছালো দেখাতে পারে।
ঘরের পর্দাঃ
এবারের প্রসঙ্গ পর্দা। দেয়ালের রঙের সাথে মিল রেখে অথবা এক বা দুই শেড গাঢ় পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। জানালার পর্দা পাতলা ও হালকা রঙের হলে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস সহজে প্রবেশ করতে পারে। আরেকটা কথা মাথায় রাখতে হবে, জানালায় ছোট পর্দা ব্যবহার করলে কিন্তু রুম ছোট দেখাবে। তাই সিলিং থেকে মেঝে পর্যন্ত লম্বা এবং দুইপাশে একটু বেশি জায়গা নিলে, জানালাটা আসলে যতটা, তার চেয়ে বড় মনে হবে এবং ঘরের উচ্চতাও বেশি মনে হবে।
ফার্নিচার সিলেকশনঃ
আসবাবপত্রের কৌশলগত নির্বাচন আপনার ছোট ঘরটিকে আরও বড় দেখাতে অনেক সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ছোট জায়গার কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে ডিজাইন করা সবকিছুই কিনতে হবে। খুব বেশি কারুকাজ করা আসবাব এড়িয়ে চলাই ভালো। ছোট ঘরে সাধারণ এবং মিনিমালিস্ট ডেকোরেশন বেশি কার্যকর। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ফ্লোরিং সিস্টেম আসবাবপত্র বেছে নিলে। এতে উপরের জায়গাটি খোলামেলা দেখাবে।
মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার ব্যবহার করাঃ
খরচ এবং স্পেস দুটোই সেইভ করতে মাল্টি ফাংশনাল ফার্নিচারের বিকল্প নেই। সেই সাথে মেনটেনেন্সের ঝামেলাও কম। বর্তমানে মাল্টি ফাংশনাল ফার্নিচারের বহুল ব্যবহৃত উদাহরণ হচ্ছে সোফা কাম বেড। সাধারন সময়ে এগুলো সোফা হিসেবে ব্যবহার করা যায় আর বাসায় মেহমান আসলে খুলে খাট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও বক্স বেড, ফোল্ডিং টেবিল এগুলোও সমান তালে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
সরু কার্পেটের ব্যবহারঃ
ফ্লোরে কার্পেট ব্যবহার করতে চাইলে ছোট ছোট সাইজের ব্যবহার না করাই ভালো। ছোট কার্পেট স্পেসকে আরও ছোট দেখায়। তার চাইতে বড় কার্পেট ব্যবহার করুন, যেটাতে সবকিছুই কভার করতে পারে।
এই টিপসগুলোকে গাইডলাইন ধরে, নিজের অভিরুচি ও পছন্দ মতো ঘর সাজিয়ে নিন। আর দেখুন আপনার এই ছোট্ট ঘরটির চমক!