ভালবাসায় সেল্ফ রেস্পেক্ট মানে হলো,নিজেকে এতটা সম্মান করা,যেন ভালবাসার জন্য নিজের আত্মসম্মান,মানসিক শান্তি বা ব্যক্তিত্ব হারিয়ে না ফেলতে হয়।
এটা অহংকার না,বরং নিজের মূল্য বুঝতে পারা।যেখানে আপনি কাউকে ভালবাসবেন,কিন্তু নিজের কষ্ট,অপমান বা অবহেলাকে“ভালবাসা” বলে মেনে নিবেন না।
উদাহরণ হিসেবে,
*বারবার অসম্মান করলেও চুপ করে সহ্য না করা।
*নিজের অনুভূতির মূল্য দেওয়া।
*সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজেকে ছোট না করা।
*না বলার সাহস রাখা
ভালবাসলেও নিজের পরিচয় হারিয়ে না ফেলা।
*সত্যিকারের ভালবাসায় সেল্ফ রেস্পেক্ট থাকে।
কারণ যে মানুষ আপনাকে ভালবাসবে,সে কখনো চাইবে না আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলুন।
এক লাইনে বলতে গেলে,
ভালবাসায় সেল্ফ রেস্পেক্ট মানে,কাউকে ভালবাসলেও নিজেকে অসম্মান না করা।
সেল্ফ রেস্পেক্ট কতটা জরুরি?
ভালবাসায় সেল্ফ রেস্পেক্ট খুব জরুরি,কারণ আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলা সম্পর্ককে ধীরে ধীরে অসমান করে দেয়।
যেখানে একজন শুধু মানিয়ে যায়,চুপ থাকে, নিজের কষ্ট লুকায়,সেখানে ভালবাসা থাকলেও শান্তি থাকে না।
সেল্ফ রেস্পেক্ট মানে অহংকার না।এটা মানে,
নিজের অনুভূতির মূল্য দেওয়া।অসম্মান মেনে না নেওয়া।বারবার ভেঙে পড়লেও নিজেকে ছোট না করা।ভালবাসার জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে না ফেলা।যে সম্পর্কে সম্মান নেই,সেখানে ভালবাসাও একসময় ক্লান্ত হয়ে যায়।
কারণ সত্যিকারের ভালবাসা কখনো কাউকে ছোট করে না,বরং নিরাপদ অনুভব করায়।
কি করবেন :
আত্মসম্মান বজায় রাখতে সবসময় কঠিন মানুষ হতে হয় না,নিজের মূল্যটা বুঝতে হয়।কিছু বাস্তব বিষয় মেনে চললে এটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়।
*নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।সবসময় অন্যের মন রাখতে গিয়ে নিজের কষ্ট চেপে রাখবেন না।
*“না” বলতে শিখুন
সব কিছু মেনে নেওয়াই ভালবাসা না।কিছু জায়গায় সীমা টানা জরুরি।*অসম্মানকে স্বাভাবিক ভাববেন না।বারবার অপমান,অবহেলা বা ছোট করা এসবকে ভালবাসা বলে মানিয়ে নিলে আত্মসম্মান ক্ষয়ে যায়।-
*নিজের পরিচয় ধরে রাখুন।সম্পর্কের বাইরে নিজের স্বপ্ন,কাজ,পছন্দ এসবও গুরুত্বপূর্ণ।
*অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না।মানসিক বা অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি একজনের উপর নির্ভর করলে নিজের সিদ্ধান্তের শক্তি কমে যায়।
*ভুল হলেও নিজেকে ঘৃণা করবেন না।সবাই ভুল করে।ভুল থেকে শেখা *আত্মসম্মান,নিজেকে শেষ করে দেওয়া না।
*যে সম্পর্ক শান্তি কেড়ে নেয়,সেটা নিয়ে ভাবুন।
*ভালবাসা মানে শুধু ধরে রাখা না,কখনো কখনো নিজেকে বাঁচানোও।
শেষ পর্যন্ত,আত্মসম্মান মানে নিজেকে সবচেয়ে বড় ভাবা না।নিজেকে এতটা ছোট না করা,যেন নিজের চোখেই একদিন হারিয়ে যান।
একটা ছোট গল্প বলি,
রিয়া আর রাকিবের সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল খুব সুন্দরভাবে।হাসি,আড্ডা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন সব ছিল।
কিন্তু কিছুদিন পর রাকিব বদলাতে শুরু করল।
মেসেজের উত্তর দিত দেরি করে,কথা বলার সময় রাগ দেখাত,আর রিয়াকে প্রায়ই বলত তুমি বেশি সেনসিটিভ,সবকিছু নিয়ে ভাবো।
রিয়া প্রথমে ভাবল, সব সম্পর্কেই তো একটু ঝামেলা থাকে।তাই সে চুপ থাকল।মানিয়ে নিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে রাকিবের অবহেলা বাড়তে থাকল।
একদিন রিয়া খুব কষ্ট পেয়ে বলল,তুমি কি আমাকে আর আগের মতো গুরুত্ব দাও না?
রাকিব হেসে বলল,এত নাটক করো কেন?
সেই রাতে রিয়া অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকল।তার ভেতরে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরছিল,আমি কি সত্যিই এতটাই তুচ্ছ?
পরের দিন সে একটা সিদ্ধান্ত নিল।সে আর বারবার নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করল না।
শান্তভাবে বলল, “ভালবাসা সেখানে থাকে, যেখানে সম্মান থাকে। আমি ভালোবাসি,কিন্তু নিজেকে হারিয়ে নয়।”
রাকিব অবাক হয়ে গেল। কারণ সে ভেবেছিল রিয়া সব সহ্য করে যাবে।
কিন্তু রিয়া চলে গেল।
অভিমানে নয়,চলে গেল আত্মসম্মান নিয়ে।
কিছু
সময় পরে রিয়া বুঝল, ভালোবাসা শুধু কাউকে ধরে রাখা না,নিজেকে না হারিয়েও ভালো থাকা শিখে নেওয়া।
রিয়া চলে যাওয়ার পর ঘরটা আগের মতোই ছিল। শুধু মানুষটা আর আগের মতো ছিল না।রাকিব প্রথম কয়েকদিন ভেবেছিল,রিয়া আবার ফিরে আসবে, যেমন আগেও এসেছিল।
কিন্তু এইবার ফোনের স্ক্রিনে আর কোনো নাম জ্বলল না,কোনো অভিমানও এল না।
একসময় সে বুঝতে পারল সব নীরবতা অপেক্ষা না, কিছু নীরবতা বিদায়ও হয়।
আর রিয়া…
সে কোথাও গিয়ে জিতে যায়নি,শুধু নিজেকে ফিরে পেয়েছিল।যে মেয়েটা একদিন সম্পর্ক বাঁচাতে নিজেকে ছোট করত,সে এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখতে পারে।
সে আর কাউকে হারানোর ভয় পায় না,কারণ সে বুঝে গেছে,যেখানেই সম্মান নেই,সেখানেই থাকা মানে নিজেকে হারানো।
ভালবাসা হয়তো শেষ হয়নি,কিন্তু সেই ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল একটা সত্যি…
নিজেকে ভালোবাসার অধিকার।
শিক্ষা:
ভালবাসা যত গভীরই হোক,আত্মসম্মান তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে সম্পর্ক আপনাকে ছোট করে,অবহেলা শেখায় বা নিজেকে হারাতে বাধ্য করে,সেখানে থেকে সরে আসাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় সাহস।
কারণ শেষ পর্যন্ত,সত্যিকারের সেই জায়গাতেই থাকে।
যেখানে ভালবাসার সঙ্গে সম্মানও সমানভাবে বেঁচে থাকে।