তারকাদের জীবন যেন অনেকের কাছেই উন্মুক্ত আলোচনার বিষয়। বয়স বেড়েছে কি না, ওজন কত, চেহারায় পরিবর্তন কেন, বিয়ের পর কেমন দেখাচ্ছে কিংবা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শরীরে কী পরিবর্তন এসেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে মন্তব্যের কমতি নেই। বিশেষ করে নারী তারকাদের ক্ষেত্রে শরীর ও চেহারা নিয়ে কটাক্ষের প্রবণতা আরও প্রকট।
এমন বাস্তবতার মধ্যেই অনলাইন ট্রলিং ও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা।
সম্প্রতি ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে অনলাইন ট্রলিংয়ের সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেন সালমান। কাউকে নির্দিষ্ট করে নাম না নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—মানুষের ওজন, চেহারা, পরিবার, হাসি, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা কিংবা মা হওয়াকে কেন্দ্র করে কেন কটাক্ষ করা হবে?
সালমানের বক্তব্যের সারকথা ছিল, অন্যকে অপমান করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আসলে নিজের পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধেরই প্রকাশ ঘটান। তাঁর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সালমানের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে নারীর শরীর ও মাতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করার বিষয়টিও। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা পরিবর্তন আসতে পারে। অথচ সেই পরিবর্তনকেই অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপের উপাদান বানানো হয়।
এই জায়গাতেই সালমানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন রিচা চাড্ডা।
‘নিউজ১৮’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচা জানান, সালমান এই বিষয়ে কথা বলেছেন—এটি তিনি আগে জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে অভিনেতার বক্তব্যের প্রশংসা করেন তিনি।
রিচার ভাষায়, এমন কথা বলা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তাঁর মতে, বডি শেমিং বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কাউকে হেয় করার প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা প্রয়োজন।
রিচার এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে তারকাদের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের সংস্কৃতি। পর্দার মানুষ হলেও তারকারাও ব্যক্তিগত জীবনে একইভাবে বয়স, শারীরিক পরিবর্তন, মাতৃত্ব কিংবা নানা বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যান। বিশেষ করে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নারীর শরীরের পরিবর্তনকে ‘ত্রুটি’ হিসেবে দেখার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
সালমানের বক্তব্য সেই আলোচনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। অন্যদিকে রিচা চাড্ডার সমর্থন দেখিয়েছে, বিনোদনজগতের পরিচিত মুখদের কাছ থেকেও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থানের প্রত্যাশা রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু তারকাদের নিয়ে নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে মন্তব্য করার আগে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি, বাস্তবতা ও মর্যাদার কথাও বিবেচনা করা জরুরি। কারণ চেহারা, বয়স কিংবা শরীরের পরিবর্তন কোনো মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে না। আর নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই এমন একটি সমাজের প্রত্যাশা করতে পারেন, যেখানে মতামতের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের প্রতি সম্মানও বজায় থাকে।