ফুটবল বিশ্বের নতুন মহাতারকা ‘লামিনে ইয়ামাল’

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বের নতুন মহাতারকা ‘লামিনে  ইয়ামাল’

গতকালকেও একটি ছবি সামাজিক যো্গাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো, যেখানে দেখা যাচ্ছিলো কিংবদন্তী ফুটবলার মেসির কোলে শিশু লামিনে ইয়ামাল। আজকের পরিসংখ্যান বলছে, সেই লামিনে ইয়ামালই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ। 


ইউরোপ জয়ের মাত্র দুই বছর পর লামিনে ইয়ামালের ক্যারিয়ারে যোগ হয়ে গেলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুকুট। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। 


ফাইনালে গোল না পেলেও ডান প্রান্তে ইয়ামালের গতি, ড্রিবলিং এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা স্পেনের আক্রমণে ধার এনে দেয়। এবারের পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তিনি প্রতিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রেখেছেন এবং স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরো চ্যাম্পিয়ন থেকে বিশ্বকাপজয়ী—এই অনন্য কীর্তি তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 


বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনজুড়ে উৎসবের ঢেউ নামে। ইয়ামালের নিজ শহর মাতারোর রোকাফোন্দা এলাকাও আনন্দে ভাসে। স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন তারকা ফুটবলার নন, বরং কঠোর পরিশ্রম, বৈচিত্র্য ও স্বপ্নপূরণের প্রতীক।


বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা লামিনে ইয়ামালের জন্ম ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাতে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, গতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোচদের মুগ্ধ করেছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক এবং এরপর স্পেন জাতীয় দলে ডাক—সবকিছুই যেন ঘটেছে চোখের পলকে।


ইউরো ২০২৪ ছিল তাঁর বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশের টুর্নামেন্ট। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামেন। পরে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। সেই গোল শুধু স্পেনকে ম্যাচে ফেরায়নি, গোটা ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দেয়—নতুন এক মহাতারকার আগমন হয়েছে।


ইউরো ২০২৪–এর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেন যখন শিরোপার জন্য লড়ছে, তখন সবার চোখ ছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের দিকে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে এগিয়ে এসে নিখুঁত পাসে নিকো উইলিয়ামসের গোলটি তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। পরে আরও কয়েকবার ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ান, জর্ডান পিকফোর্ডকে কঠিন দুটি সেভ করতে বাধ্য করেন এবং ম্যাচজুড়ে আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি হয়ে থাকেন। স্পেন ২-১ গোলে জিতে রেকর্ড চতুর্থ ইউরো শিরোপা জেতে, আর ইয়ামাল হন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি প্রমাণ করে দেন, প্রতিভার কোনো বয়স হয় না।


ইয়ামালের যে উক্তিগুলো আপনাকেও মানসিকভাবে শক্তি যোগাতে পারে:


“আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই। ভয় নিয়ে মাঠে নামলে কিছুই করা যায় না।” — ইউরো চলাকালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য।


“কথা বলো, এখন কথা বলো।” — ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করার পর সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর বিখ্যাত উদ্যাপন।


“এটা স্বপ্নের মতো। প্রতিদিন আমি চেষ্টা করি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে।” — ইউরোতে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

sidebar ad