দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে বিয়ে করেন প্রীতম ও শেহতাজ। তাঁদের সম্পর্কের গল্পে ছিল সংগীত ও অভিনয়েরও যোগসূত্র। বিনোদন অঙ্গনে তাঁদের জুটি ছিল পরিচিত ও আলোচিত। সম্প্রতি বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে প্রীতম জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। নিজেদের মধ্যে অনেক আলোচনা এবং দুই পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই তাঁরা আলাদা পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই তারকা দম্পতির বিচ্ছেদ অনেকের মন খারাপের কারণে পরিণত হয়েছে।
তারকারা প্রেমে পড়লে আমরা খুশি হই, তাঁদের বিয়েতে আনন্দ পাই। কিন্তু সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে আমাদের অনেকেরই ভীষণ মন খারাপ হয়। অথচ তাঁদের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কই নেই! তাহলে কেন এমন হয়? তারকাদের আমরা শুধু পর্দার মানুষ হিসেবে দেখি না। তাঁদের সাক্ষাৎকার, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আর ভালোবাসার গল্প দেখতে দেখতে তাঁদের জীবনের সঙ্গে একধরনের আবেগের সংযোগ তৈরি করে ফেলি।
মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের একতরফা আবেগের সংযোগকে বলা হয় ‘প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ’। আমরা তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও মনে হতে পারে, তাঁদের খুব কাছের মানুষ আমরা। ফলে তাঁদের বিচ্ছেদের খবরও আমাদের আবেগকে নাড়া দিতে পারে।
এছাড়াও তারকাদের বিচ্ছেদ কখনো আমাদের নিজেদের প্রেম, পুরোনো স্মৃতি কিংবা ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের কথাও মনে করিয়ে দেয়। আবার কখনো আমরা যে সুন্দর প্রেমের গল্পে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম, তার বিপরীতে বিচ্ছেদের সমাপ্তি মেনে নিতেও কষ্ট হয়।
তবে আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার, পর্দায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা তারকাদের জীবনের যতটুকু দেখি, সেটাই তাঁদের পুরো জীবন নয়। তাঁদের বিচ্ছেদে মন খারাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান করাও জরুরি।
ঢাকা/এমআরএফ