ইশরাত জাহান ইনা:
ওপরা উইনফ্রের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি দরিদ্র পরিবারে। তাঁর বাবা-মা কখনো বিয়ে করেননি। জন্মের পর জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি তাঁর দাদির কাছে বড় হন।
দারিদ্র্য এতটাই প্রকট ছিল যে ছোটবেলায় অনেক সময় আলুর বস্তা কেটে তৈরি পোশাক পরতে হতো তাঁকে। তবে ছোটবেলা থেকেই ওপরা ছিলেন মেধাবী। মাত্র তিন বছর বয়সেই তিনি পড়তে শিখে যান এবং চার্চে দাঁড়িয়ে বাইবেল আবৃত্তি করতেন।
সংগ্রামের শুরু
শৈশবের দারিদ্র্যের চেয়েও ভয়াবহ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। মাত্র নয় বছর বয়স থেকে তিনি পরিবারের পরিচিত কয়েকজনের দ্বারা বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এই মানসিক আঘাত তাঁকে গভীরভাবে ভেঙে দেয়।
১৪ বছর বয়সে তিনি গর্ভবতী হন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নবজাতক সন্তান মারা যায়। এই ঘটনা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি।
পরবর্তীতে তিনি বাবার কাছে চলে যান। তাঁর বাবা তাঁকে কঠোরভাবে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহ দেন। সেখান থেকেই ওপরার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।
স্বপ্নপূরণের পথে
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর কলেজে পড়ার সময় একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে সংবাদ পাঠের কাজ শুরু করেন। তাঁর অসাধারণ উপস্থাপনা দক্ষতার কারণে অল্প সময়েই তিনি টেলিভিশনে কাজের সুযোগ পান।
শুরুতে একজন নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁকে নানা বৈষম্য ও অবমূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হয়। তবু তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি।
সফলতার গল্প
১৯৮৬ সালে তাঁর উপস্থাপনায় (The Oprah Winfrey Show) শুরু হয়। খুব দ্রুত এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টক শোতে পরিণত হয় এবং টানা ২৫ বছর সম্প্রচারিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেন।
পরে তিনি নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান (Harpo Productions) প্রতিষ্ঠা করেন এবং OWN (Oprah Winfrey Network) নামে একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক চালু করেন।
তিনি লেখক, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা এবং সমাজসেবী হিসেবেও বিশ্বজুড়ে সম্মান অর্জন করেন। বহু বছর ধরে তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল নারীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
ওপরা উইনফ্রের জীবন থেকে শিক্ষা
ওপরা উইনফ্রের জীবন আমাদের শেখায়, জন্ম, দারিদ্র্য কিংবা অতীতের দুঃসহ অভিজ্ঞতা মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, একজন মানুষ নিজের ক্ষতকে শক্তিতে পরিণত করেও পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।