নারী শুধু পরিবারের দায়িত্ব সামলাবেন—সময় বদলের সঙ্গে বদলে গেছে সেই প্রচলিত ধারণা। সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে একজন নারী যেমন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, তেমনি হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা। আর সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বানানী উইমেন্স ক্লাব।
সম্প্রতি আয়োজিত ক্লাবটির মধ্যাহ্নভোজ ও পরিচিতি অনুষ্ঠানে উঠে আসে নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা পরিকল্পনা। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত জয়েন্ট সেক্রেটারি নাজমা মাসুদ নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নির্বাহী কমিটি (ইসি) ও নতুন সদস্যদের পরিচিতি উপলক্ষে বানানী উইমেন্স ক্লাব এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে। ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিক্স সিজনস হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আকলিমা রহমান, সেক্রেটারি ফাহমিদা সিনহা পলাশ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মিসেস নাজমা মাসুদসহ ( ইসি) সদস্যরা অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে ক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী।
নব নিযুক্ত জয়েন্ট সেক্রেটারি নাজমা মাসুদ বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি নারীর মধ্যে লুকিয়ে আছে একজন উদ্যোক্তা। শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা আর আন্তরিক প্রশিক্ষণের। তাই আমাদের পরিকল্পনা—সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের হাতে তুলে দেওয়া দক্ষতার আলো, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। সেলাই, হস্তশিল্প, বা ছোট ব্যবসার প্রশিক্ষণ—আমরা তাদের পাশে থাকব প্রতিটি পদক্ষেপে ।
তিনি আরও বলেন, 'আর আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার—সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকা। যারা আজ স্কুলের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে, যাদের হাতে খাতা-কলম নেই, যাদের শীতের রাতে গায়ে জড়ানোর মতো কম্বল নেই—আমরা তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।'
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আঁখি আলমগীর সঙ্গীত আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এ সময় সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি নির্বাহী কমিটি ও নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বানানী উইমেন্স ক্লাবের এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি সংগঠনের কার্যক্রম নয়; এটি নারীদের নিজেদের সক্ষমতা আবিষ্কারের সুযোগ করে দেওয়ার একটি প্রয়াস। কারণ প্রতিটি নারীর ভেতরেই হয়তো লুকিয়ে আছে একজন উদ্যোক্তা—প্রয়োজন শুধু সেই সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া, সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার পথে পাশে থাকা।
নারীর হাতে দক্ষতা, মনে আত্মবিশ্বাস আর পাশে সহযোগিতার হাত—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হতে পারে স্বাবলম্বী নারী, শক্তিশালী পরিবার এবং আরও সম্ভাবনাময় সমাজ।