(চয়নিকা চৌধুরী ২৫ বছরের নির্মাণযাত্রা সম্পন্ন করেছেন। চিত্রনায়িকা বুবলী তাঁকে শুধু নির্মাতা হিসেবে নয়, একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। বিশেষ করে চয়নিকার সিনেমা প্রহেলিকা-তে ‘অর্পা’ চরিত্রে অভিনয়ের স্মৃতি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা স্পষ্ট করেছেন। চয়নিকার কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ, সহযোগিতা ও উষ্ণতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ—এটিও লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূল লেখাটি রোদসীর নারীর ডায়েরি বিভাগে প্রকাশিত হলো।)
কিছু মানুষ চলচ্চিত্র কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় শুধু গল্প বলেন না—তাঁরা গল্পের ভেতর দিয়ে সময়কে ধরে রাখেন। ২৫ বছর—শুধু সময়ের হিসাব নয়; ২৫ বছর গল্প বলার, গল্প নির্মাণের, স্বপ্নকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলার এক অসাধারণ পথচলা।
“চয়নিকা চৌধুরী”—একজন নারী নির্মাতা হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা আমাদের শিল্পাঙ্গনে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। তাঁর প্রতিটি নির্মাণের পেছনে থাকে সাহস, সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় আর নিজের গল্প বলার নিজস্ব ভাষা।
আপনার সঙ্গে সিনেমায় কাজ করার স্মৃতিটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের। আপনার সিনেমার সেটে প্রথম দিন থেকেই যে আন্তরিকতা, মমতা ও আপন করে নেওয়ার উষ্ণতা পেয়েছি, তা আজও মনে পড়ে। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও বড় বোনের মতো আপনার স্নেহ, শুটিংয়ের দৃশ্য নিয়ে মন খুলে আলোচনা করা, আপনার কাছ থেকে ছোট ছোট পরামর্শ পাওয়া—এসব মুহূর্ত আমার কাছে আজও অমূল্য।
আপনার নির্দেশনায় কাজ করতে গিয়ে শুধু একজন নির্মাতাকে নয়, একজন সংবেদনশীল, যত্নশীল ও সৃষ্টিশীল মানুষকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আপনার নির্মিত “প্রহেলিকা” সিনেমার অর্পা হয়ে পর্দায় থাকার আনন্দের পাশাপাশি আপনার ভাবনা, নিষ্ঠা ও ভালোবাসার অংশ হতে পারাটাও আমার জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
সময়ের সঙ্গে অনেক কাজ ও অনেক স্মৃতি পেছনে ফেলে আসি, কিন্তু কিছু মানুষ ও কিছু অভিজ্ঞতা মনের ভেতর স্থায়ী হয়ে থাকে। আপনার সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিটা আমার কাছে ঠিক তেমনই—উষ্ণ, আপন এবং ভালোবাসায় ভরা।
২৫ বছরের এই গৌরবময় যাত্রার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনার গল্প বলা আরও অনেক বছর ধরে আমাদের মুগ্ধ করুক, আর আপনার সৃষ্টির পথচলা আরও সুন্দর হোক।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা সবসময়।