সায়মা রহমান তুলি
এটাই সত্যি—তোমার অভিমান কেউ ভাঙাতে আসবে না, এই অপশনের যুগে। এটাই সত্যি—বছরের পর বছর একই ব্যক্তি, যার সঙ্গে তোমার কথা হয় না, সে তোমার জন্য ফিরে আসবে না। আর এটাই সত্যি—শীতের পর বসন্ত আসে, প্রকৃতির নিয়মে।
তুমি বন্ধ ঘড়ির মতো অবহেলায় ড্রয়ারের এক কোণে পড়ে থাকতেই পারো। তখন একজনকে সঙ্গী করে নাও—যে তোমাকে কোনো দিন ছেড়ে যাবে না। তিনি একাকিত্বের সঙ্গী, তিনি মনের কবি। তোমার সব ডিজায়ারের ঊর্ধ্বে।
যখন ক্রনিক ডিপ্রেশন আসে, বিশ্বাস করো, কোনো ঘুমের ওষুধ, বন্ধুর গল্প কিংবা ‘ডিয়ার জিন্দেগি’র আলিয়া ভাটের চেয়েও সেরা সঙ্গ তোমাকে দেবেন মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি।
রুমিকে চিনতে ব্যর্থ হলে নিজেকে কী করে চিনবে?
সময়টা ছিল ২০১৫। রুমির বই The Essential Rumi-এর অরিজিনাল কপি উপহার দিয়েছিলেন ফাদার ডেভিড বারেল। আজ থেকে ১১ বছর আগের কথা। আমি রুমিকে পেয়েছিলাম। আর নিজেকে ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাইনি, যে আমাকে বুঝতে চেয়েছে—কিংবা যাকে আমি বুঝতে চেয়েছি।
বই আপনাকে জ্ঞানের দুষ্টু চক্রে আটকে রাখে না; বই আপনাকে জার্নি করায় সারা বিশ্বে। আর সেটার জন্য খুব বেশি এফোর্টও দিতে হয় না।
প্রত্যেক ইন্ট্রোভার্ট, একাকী মানুষের বড় সঙ্গী রুমি।
আজকাল প্রায় সবার কাছেই এই বইটি আছে। তাই এটা শেয়ার করলাম—এটি দিয়েই শুরু করতে পারেন। বই পড়তে না চাইলে ইউটিউবে রুমির কবিতা শুনুন; মুহূর্তেই মুড পালটে যাবে।
জীবনে সুযোগ হলে তুরস্ক যাব—কেবল রুমির জন্য।