রঞ্জনা বিশ্বাস
ক্লাস পরীক্ষা—লিনিয়ার অ্যালজেব্রা। রাতে ফোন করে বলে, “শোন মা, রাতে পড়তে হবে। ফেল করার চান্স আছে। কিন্তু ফেল করা তো যাবে না! প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে যাবে। তুমি ঘুমাইও না। রাতে ফোন দেবনে।”
স্কুলে পরীক্ষার সময়ও তার সঙ্গে রাত জাগতে হতো। আমি একটু ঘুমিয়ে পড়লেই ডেকে তুলত— “মা, ঘুমাইও না।”
বলতাম, “কেন? আমি তো এখানেই আছি, একই ঘরে।”
“না, তুমি ঘুমাবা না। তোমার ঘুম দেখলে আমারও ঘুমাইতে ইচ্ছে করে...”
এখন মেয়েটা হায়দ্রাবাদে। তবু পরীক্ষা এলে আমাকে রাত জাগতে হবে! ওর হোস্টেল থেকে একাডেমিক ভবন বেশ খানিকটা দূরে। ওইটুকু পথ হাঁটতে হাঁটতে আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলে। একদিন বললাম, “আমার কপাল! এই বয়সে কথা বলবি প্রেমিকের সঙ্গে, তা না আমার সঙ্গে!” হেসে বলে, “প্রেম তো করা যায়, কিন্তু হয় না তো!!! মানে, বুঝছ?”
আমি আর কী বুঝব! কাল আবার ফোন—
“মা, তোমার কাছে কি কিছু টাকা হবে?”
“কত?”
মিসকা হাসি দিয়ে বলে, “তুমি কত দিতে পারবা?”
বললাম, “এই মিসকা হাসি আমাকে নয়, কাকাকে দিস। আমার টাকা-পয়সা নাই।”
আবার হাসি।
বললাম, “তোমার লাগবে কত?”
“তুমি জানতে চাইলা না, কী করব?”
“যা করবা কর। আমি জেনে কী করব?”
“শোন, আমরা একটু পানাহার করব? না, বাইরে না।”
“কে কে?”
“হোচিমিন আপু, তন্ময় দাদা, বৃষ্টি আপু...”
সব পিএইচডি গ্রুপ।
বললাম, “তোমার ইয়ারমেট, ব্যাচমেট কেউ নাই?”
“ধুরো! ঐগুলা তো পোলাপান। ওদের চকলেট দিয়া দেবনে।”
বললাম, “আর পিএইচডি গ্রুপের কাছে তুমি বুঝি খুব বড়?”
হা হা হা হাসি...
মেয়েটা বড় হয়ে গেছে। অনেক দূরে থাকে। নিজের পড়াশোনা, নিজের বন্ধু, নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। তবু আমার কাছে সেই ছোট্ট মেয়েটাই।
আজ আমার মেয়ের জন্মদিন। অ্যাপ্লায়েড ম্যাথে মাস্টার্স করছে হায়দ্রাবাদ ইউনিভার্সিটিতে। তবু আমার কাছে সে এখনও সেই ছোট্টটিই রয়ে গেছে।
শুধু চাই—তুই সুস্থ থাক, ভালো থাক, আনন্দে থাক। নিজের মতো করে জীবনটা উপভোগ কর।
এর বেশি আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
শুভ জন্মদিন, আমার ছোট্টটি।
(বি. দ্র: রোদসী নারীর ডায়েরিতে লিখতে পারেন আপনিও। প্রিয় মানুষকে চিঠি লিখতে পারেন, লিখতে পারেন নিজের আনন্দ বিষাদের গল্পও।)