রূপের মঞ্চে শেষ হাসি হাসলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা। ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাংয়ে বসেছিল এবারের মিস ওয়ার্ল্ডের গ্র্যান্ড ফিনালে। বিশ্বের নানা প্রান্তের ১১১ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বসুন্দরীর মুকুট উঠেছে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণীর মাথায়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে জোহেইরি মোলাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
জোহেইরির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ডমিনিকান রিপাবলিকের জন্যও বিশেষ এক মুহূর্ত। দেশটির জন্য এটি মিস ওয়ার্ল্ডের ইতিহাসে দ্বিতীয় জয়। এর আগে ১৯৮২ সালে মারিয়াসেলা আলভারেজ ডমিনিকান রিপাবলিকের হয়ে এই মুকুট জিতেছিলেন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও একই দেশের কোনো নারীর মাথায় উঠল বিশ্বসুন্দরীর মুকুট।
সৌন্দর্যের সঙ্গে উদ্দেশ্যের গল্প
মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা এখন কেবল সৌন্দর্য, পোশাক কিংবা মঞ্চে আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা নয়। ‘Beauty With a Purpose’—অর্থাৎ সৌন্দর্যের সঙ্গে সামাজিক উদ্দেশ্যকে যুক্ত করাই এই আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জোহেইরি মোলার ক্ষেত্রেও সামাজিক কাজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এমন একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের শিশুদের ইংরেজি শেখার সুযোগ করে দেওয়া। তাঁর বিশ্বাস, ইংরেজি ভাষা শেখার মাধ্যমে এসব শিশুর সামনে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলে যেতে পারে।
অর্থাৎ তাঁর কাছে মুকুট কেবল সৌন্দর্যের স্বীকৃতি নয়; এটি ছিল মানুষের জন্য কাজ করার আরও বড় একটি প্ল্যাটফর্ম।
এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১১১ জন প্রতিযোগী। বিভিন্ন ধাপের চ্যালেঞ্জ, সাক্ষাৎকার ও মঞ্চের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগীদের বাছাই করা হয়। প্রথমে তৈরি হয় টপ ৪০, সেখান থেকে টপ ২০, পরে টপ ১২ এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ছয়জনের তালিকা।
চূড়ান্ত ছয়ে জোহেইরির সঙ্গে ছিলেন স্পেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত স্পেনের এলিজাবেথ রেইনেস প্রথম রানার-আপ এবং মালয়েশিয়ার তানুসিয়া চেট্টি দ্বিতীয় রানার-আপ হন।
কেন আলাদা জোহেইরি?
একজন বিশ্বসুন্দরীর পরিচয় সাধারণত তাঁর সৌন্দর্য দিয়েই শুরু হয়। কিন্তু জোহেইরি মোলার জয় মনে করিয়ে দিল—আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে এখন গল্পটাও গুরুত্বপূর্ণ।
মঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা, সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা এবং নিজের উদ্দেশ্যকে বিশ্বের সামনে প্রকাশ করার সক্ষমতাও একজন বিজয়ীর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
জোহেইরির ক্ষেত্রে সেই গল্পটি আরও অর্থবহ। কারণ তিনি যে সামাজিক উদ্যোগের কথা বলেছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করা। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট—একটি নতুন ভাষা কখনো কখনো একজন মানুষের সামনে নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দিতে পারে।
মুকুটের পরের যাত্রা
বিশ্বসুন্দরীর মুকুট পাওয়ার পর জোহেইরি মোলার সামনে এখন আরও বড় দায়িত্ব। মিস ওয়ার্ল্ডের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাঁর সামাজিক উদ্যোগকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়াই হতে পারে তাঁর নতুন অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য।
ভিয়েতনামের মঞ্চে যখন সাবেক বিশ্বসুন্দরী থাইল্যান্ডের অপাল সুচাতা চুয়াংস্রি তাঁর উত্তরসূরির মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন, তখন শুধু একজন সুন্দরীর হাতে শিরোপা ওঠেনি—ডমিনিকান রিপাবলিকের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান হয়েছে।
জোহেইরি মোলার গল্প তাই শুধু ‘বিশ্বসুন্দরী কে হলেন’—এই প্রশ্নের উত্তর নয়। এটি এমন এক সময়ের গল্প, যখন সৌন্দর্যের সংজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, সামাজিক কাজ এবং মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা।
তথ্য সূত্র: এনডিটিভি