স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। আর এই সুখের মুল খুঁজে নিতে প্রসঙ্গ আসে যখন ওয়েট লস বা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে নিজেকে ফিট রাখার চিন্তা তখনই যুক্ত হয় খাবার পরিমান সীমিত করার ব্যাপারটি। কিন্তু প্রশ্নটি হল একটি কঠোর, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রিত ডায়েট কি শরীর ফিট রাখতে আদৌ কি কোন কাজে আসে?
শরীর ফিট ও এক্টিভ রাখতে শরীরচর্চার কোন বিকল্প নেই। আর অনেকেই এই শরীরচর্চার পাশাপাশি যে পরিমান ক্যালোরি গ্রহণ করার কথা তার চেয়েও অনেক কম ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করে থাকে। এই প্রসংগে পুষ্টিবিদ সুসি বারেলের মতে, “এতে করে আপনি নিজেকে দীর্ঘস্থায়ী ক্যালোরি বঞ্চনার স্বীকার হবেন এবং নিজে ভালো থাকা বোধ হারাবেন।’’ তাই যদি লক্ষ্য থাকে ফিট ও স্বাস্থ্যকর থাকা তবে নিচের লক্ষণগুলো বলে দিবে আপনার শরীর আরও খাবার চাচ্ছে কিনা-
* আপনি যদি প্রতিদিন শরীরচর্চা করেন এবং তার সাথে একটি কঠিন ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত ডায়েট চালু রাখেন তবে দেখবেন আশানুরূপ আপনার শরীরে তেমন পরিবর্তন আসছেনা। এর কারণ হতে পারে শরীরে আরও জ্বালানীর প্রয়োজন। ফিট এবং এক্টিভ থাকার জন্য , শরীরের চর্বির কার্যকরভাবে বিপাক করার জন্য পেশীগুলোর একটি নির্দিষ্ট পরিমান কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। এইজন্য প্রয়োজনের তুলনায় কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে শক্তি সংরক্ষণের জন্য বিপাকীয় হার হ্রাস পাবে।
* সুষম খাদ্য গ্রহণ করার পর তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা পর পর মানুষ ক্ষুধা অনুভব করে। আর এই ক্ষুধার অনুভূতিই বুঝিয়ে দেয় যে আপনার খাবার সঠিকভাবেই নিঃশেষিত হচ্ছে। কিন্তু যারা ক্রমাগত ক্যালোরি সীমিত করেন বা কফি, প্রোটিন শেক বা কম ক্যালোরি পানীয় এবং স্ন্যাকস গ্রহণ করে থাকে, তাদের ক্ষুধার অনুভূতি কমে যেতে পারে কারন বিপাকীয় হার ক্যালরি ঘাটতির সাথে হ্রাস পায়।
* সঠিক পুষ্টি ও ক্যালোরির অভাব মেনস্ট্রুয়াল সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। শরীরের হরমোন পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্যতালিকাগত চর্বি ও আয়রন গ্রহণের উপর নির্ভরশীল। তাই এসব গ্রহনের পরিমান কম হলে হরমোনাল মিসব্যালেন্স হতে পারে।
* দীর্ঘস্থায়ী ডায়েট সাধারণত পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সহ হজম সংক্রান্ত সমস্যা ঘটায়। খাদ্যের পরিমান কমে যায় ফলে শরীরের বিপাকীয় হারও কমে যায়।
* ক্যালোরি রেস্ট্রিকশান সরাসরি শরীরের ইমিউনি সিস্টেমের ক্ষমতাতে প্রভাব ফেলে। কম ক্যালোরি যুক্ত খাবারগুলোতে জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের মতো অবশ্যম্ভাবী পুষ্টিগুলোর কম উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি স্বাস্থ্যকর ভাবে খাচ্ছেন কিন্তু নিয়মিত অসুস্থ হয়েও পড়ছেন তাহলে এর মানে হলো আপনার শরীর ক্রমাগত খালি হয়েই চলছে এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হছে।
* সবসময় এক ধরনের ক্লান্তিবোধ কাজ করবে। ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠবে।
আমাদের শরীরের জ্বালানী হচ্ছে খাদ্য। ওয়ার্কয়াউটে জ্বালানী দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত খাবার খাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে ডায়েটেশিয়ান সুসি বারেলের এই চেকলিস্ট অনুসরণ করা যেতে পারে-
* প্রতিদিন কমপক্ষে তিন বেলা খাবার উপভোগ করতে হবে। এবং সেই খাবারগুলোর প্রতিটিতে কার্বহাইড্রেট ও প্রোটিন আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণত ৩০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটের সাথে ১০ গ্রাম প্রোটিন এই হিসেবে খাওয়া ভালো।
* না খেয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি থাকা যাবেনা। প্রতি ঘন্টার এক্টিভিটির জন্য দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণে অতিরিক্ত ২০০-৩০০ ক্যালরি যোগ করতে হবে।
* শরীরচর্চার পর ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে কিছু খাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এ সময় শরীরের পুষ্টি শোষণ করার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। ভারী কিছু না খেতে চাইলে তার পরিবর্তে ফল এবং বাদাম বা প্রোটিন স্মুদি, স্যান্ডউইচ বা ব্রাউন রাইসের সাথে টুনা সহকারে খাওয়া যেতে পারে।
* প্রতি ৩-৪ ঘন্টা অন্তর ক্ষুধার্ত বোধ হচ্ছে কিনা তা নোট করতে হবে এবং ক্ষুধা পেলে খেতে হবে।
ওয়ার্কআউটের পিছনে আমরা কতটা শ্রম দিচ্ছি, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপুর্ণ হলো ওয়ার্কআউটের পর আমরা কী খাচ্ছি এবং কিভাবে খাচ্ছি। ব্যায়াম করার পর শরীরের পেশী গুলো ভেঙ্গে যায় এবং গ্লাইকোজেনের ঘাটতি দেখা যায়। তাই সঠিক খাবার না খেলে পুরো পরিশ্রমটাই বৃথা যেতে পারে।
লেখা- শায়লা জাহান