সকাল থেকে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ, মাঝে শুধু চা-কফি কিংবা খাবারের জন্য সামান্য বিরতি—এভাবেই কেটে যাচ্ছে অনেকের কর্মদিবস। কাজের প্রয়োজনে বসে থাকা যেন স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য মোটেও নিরীহ অভ্যাস নয়।
শারীরিক পরিশ্রম কমে গেলে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি: দীর্ঘসময় বসে থাকা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার একটি রূপ। নিয়মিত নড়াচড়া না করলে হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: দীর্ঘসময় বসে থাকা শরীরের বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক কার্যকলাপ কম থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা: ডেস্কে দীর্ঘসময় বসে কাজ করলে ক্যালরি খরচ কমে যায়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত খাবার ও কম শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হলে ওজন বাড়া এবং স্থূলতার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ঘাড়, কাঁধ ও কোমরের ব্যথা: ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ঘাড়, কাঁধ ও কোমরের পেশি ও মেরুদণ্ডে চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে ঘাড়-কোমর ব্যথা, পেশিতে শক্তভাব কিংবা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা: অনেকক্ষণ একই অবস্থায় বসে থাকলে পায়ের পেশির স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যায়। দীর্ঘসময় বসে থাকা বিশেষ করে যাদের অন্যান্য ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং দীর্ঘসময় বসে থাকার সঙ্গে মানসিক সুস্থতারও সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক কার্যকলাপ না থাকলে মানসিক চাপ, মন খারাপ কিংবা উদ্বেগের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্ক দেখা গেছে।
তাহলে কী করবেন?
ডেস্কে কাজ করতেই হলে একটানা বসে না থেকে নিয়মিত বিরতি নিন। কিছুক্ষণ পরপর উঠে দাঁড়ান, কয়েক মিনিট হাঁটুন, পানি আনতে নিজেই যান কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করুন। সম্ভব হলে দিনের রুটিনে হাঁটা বা অন্য কোনো নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ যোগ করুন।
মনে রাখবেন, শুধু এক ঘণ্টা ব্যায়াম করলেই সারাদিনের দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ব্যায়ামের পাশাপাশি দিনের দীর্ঘ সময়ের বসে থাকার অভ্যাসও কমানো জরুরি।
কাজের প্রয়োজনে বসতে হবে, কিন্তু একটানা বসে থাকা নয়—সুস্থ থাকতে কাজের ফাঁকে শরীরকেও নড়াচড়া করার সুযোগ দিন।
তথ্যসূত্র: WHO, CDC এবং NHS