বলিউডে প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা। এই সময়ে কখনো প্রেমের গল্পের নায়িকা, কখনো শক্তিশালী নারী চরিত্র, আবার কখনো সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা চরিত্রে দর্শকের সামনে নিজেকে নতুন করে তুলে ধরেছেন রানি মুখার্জি। দীর্ঘ এই পথচলার স্বীকৃতি এবার মিলল বিশেষ সম্মাননায়।
৬২তম মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ‘রাজ কাপুর স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রায় তিন দশকের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ সম্মাননা।
রানি মুখার্জির অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল নব্বইয়ের দশকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে বলিউডে তৈরি করেছেন আলাদা অবস্থান। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেও পেয়েছেন দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা।
‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ থেকে শুরু করে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘হাম তুম’, ‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘মর্দানি’—বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। বিশেষ করে নারীপ্রধান ও শক্তিশালী চরিত্রে রানির অভিনয় তাকে বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় তার অভিনয় যেমন দর্শককে আবেগতাড়িত করেছে, তেমনি ‘মর্দানি’তে একজন দৃঢ়চেতা পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছেন। অর্থাৎ, সময় বদলেছে, সিনেমার ধরন বদলেছে, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি রানির দায়বদ্ধতা বদলায়নি।
আর সেই দীর্ঘ পথচলারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি ‘রাজ কাপুর স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড’। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা রাজ কাপুরের নামের সঙ্গে যুক্ত এই সম্মাননা রানির ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে বিশেষ একটি অধ্যায়।
তারকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব, কিন্তু কয়েক দশক ধরে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রেখে অভিনয়ের ভিন্নতা প্রমাণ করা সহজ নয়। রানি মুখার্জির ক্যারিয়ার তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়; এটি সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া, নতুন চরিত্র গ্রহণ করা এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার গল্প।
নতুন এই সম্মাননা সেই যাত্রাকেই যেন আরও একবার সামনে নিয়ে এলো। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া রানি মুখার্জির হাতে এবার উঠল আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। আর তাতে প্রমাণ হলো—ভালো অভিনয়ের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, সময়ের সীমাও নেই।