শিশুর যত্নে পেটে সেক দেওয়া,ঐতিহ্য, আরাম নাকি প্রয়োজন?

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬

ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

শিশুর যত্নে আমাদের সমাজে নানা ধরনের ঘরোয়া রীতি প্রচলিত আছে। এর মধ্যে শিশুর পেটে হালকা গরম সেক দেওয়া একটি পরিচিত অভ্যাস।


বিশেষ করে বর্ষাকাল বা শীতের সময়ে শিশুর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হলে অনেক মা-বাবা এই পদ্ধতির আশ্রয় নেন।



তবে আধুনিক যুগে প্রশ্ন উঠতেই পারে শিশুর পেটে সেক দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?


সঠিকভাবে এবং প্রয়োজন বুঝে দেওয়া হলে হালকা উষ্ণ সেক শিশুর পেটের সামান্য অস্বস্তিতে কিছুটা আরাম দিতে পারে। উষ্ণতা পেটের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার কারণে হওয়া অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।


তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয় বরং সাময়িক আরাম দেওয়ার একটি ঘরোয়া পদ্ধতি।


সেক দেওয়ার ক্ষেত্রে যা মনে রাখা জরুরি:

সেক খুব বেশি গরম হওয়া যাবে না।


শিশুর ত্বক অত্যন্ত কোমল, তাই গরম পানির ব্যাগ সরাসরি পেটে দেওয়া ঠিক নয়।


পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে অল্প সময়ের জন্য হালকা উষ্ণতা দেওয়া যেতে পারে।


শিশুর অস্বস্তি বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।


পেটব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর, বারবার বমি, ডায়রিয়া, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া বা শিশুর অতিরিক্ত কান্নাকাটি থাকে, তাহলে শুধু সেক দিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


পুরোনো বলে সব রীতি অযৌক্তিক নয়, আবার প্রচলিত বলে সব রীতিই নিরাপদ নয়। শিশুর যত্নে প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক পদ্ধতি এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ। তাই শিশুর পেটে সেক দেওয়া যেতে পারে সাময়িক আরামের জন্য কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে, কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়।


আগে শিশুর পেটে সেক দেওয়ার জন্য অনেকেই কাপড়ে গরম লবণ, চাল বা বালি বেঁধে ব্যবহার করতেন। 


এখন সেই পুরোনো ঘরোয়া পদ্ধতিই আধুনিক রূপে পাওয়া যাচ্ছে শিশুর পেটের সেক দেওয়ার বিশেষ কিট হিসেবে।


অনলাইনে এখন এমন বিভিন্ন ধরনের কিট পাওয়া যায়, যেখানে সাধারণত থাকে শিশুর উপযোগী ছোট সাইজের সেক ব্যাগ বা বেল্ট। কিছু কিটে ব্যবহার করা হয় হট ওয়াটার ব্যাগ, আবার কিছু কিট মাইক্রোওয়েভে গরম করা যায় এমন হিট প্যাক হিসেবে তৈরি।


অনেক পণ্যেই কাপড়ের নরম কভার থাকে, যাতে শিশুর কোমল ত্বকের সঙ্গে সরাসরি অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ না ঘটে।


শিশুর পেট ফাঁপা, গ্যাসজনিত অস্বস্তি বা হালকা পেট মোচড়ানোর সময় অভিভাবকরা এসব কিট ব্যবহার করে শিশুকে সাময়িক আরাম দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুরোনো দিনের সেক দেওয়ার অভ্যাসটি এখন তাই অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, সহজ ও ব্যবহারবান্ধব রূপ পেয়েছে।


তবে আধুনিক কিট মানেই এটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত এমন ভাবার কারণ নেই।


ব্যবহারের আগে অবশ্যই তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে এবং পণ্যের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।


 অতিরিক্ত গরম সেক শিশুর ত্বকে পোড়া বা ক্ষতি করতে পারে। তাই শিশুকে দীর্ঘ সময় সেক দেওয়া বা ঘুমন্ত অবস্থায় কিট ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।



মনে রাখতে হবে, সেক কেবল সাময়িক আরাম দিতে পারে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। শিশুর পেটব্যথা বারবার হলে, সঙ্গে জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।


ঢাকা/আরএস

sidebar ad