মাথা ধরলেই অনেকে ধরে নেন, “আমার তো মাইগ্রেন আছে।” তারপর ব্যথার ওষুধ খেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন বা বারবার মাথাব্যথা হওয়াকে শুধু মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ মাথাব্যথার পেছনে মাইগ্রেন ছাড়াও টেনশন-টাইপ হেডেক, সাইনাসের সমস্যা, চোখের দৃষ্টিজনিত সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনসহ নানা কারণ থাকতে পারে।
দেখে নিন কখন সতর্ক হবেন?
মাথাব্যথা যদি নতুনভাবে শুরু হয়, ক্রমে বাড়তে থাকে, আগের তুলনায় ধরন বদলে যায় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাথাব্যথার সঙ্গে যদি— এগুলো হয়
১. হঠাৎ খুব তীব্র ব্যথা শুরু হয়
২. কথা জড়িয়ে যায় বা শরীরের কোনো অংশ দুর্বল/অবশ লাগে
৩. দৃষ্টিতে হঠাৎ সমস্যা দেখা দেয়
৪. বারবার বমি হয়
৫. জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে আসে
৬. অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়
৭. মাথায় আঘাতের পর ব্যথা শুরু হয়
তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ কখনও কখনও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ-
ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খাওয়াও উল্টো মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের মতো করে নিয়মিত ব্যথানাশক খাওয়ার বদলে মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
তাহলে কি প্রতিদিন মাথাব্যথা মানেই বড় রোগ?
একেবারেই নয়। বেশিরভাগ মাথাব্যথা গুরুতর রোগের কারণে হয় না। তবে প্রতিদিন বা ঘন ঘন মাথাব্যথা হলে কারণটি নিশ্চিত হওয়া দরকার। মাইগ্রেন থাকলেও সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মাথাব্যথাকে শুধু “মাইগ্রেন” বলে ধরে না নিয়ে—ব্যথার ধরন, কতদিন ধরে হচ্ছে, কত ঘন ঘন হচ্ছে এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না, সেগুলো খেয়াল করুন।