ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে। শীতের শুরুতে অনেকেরই সর্দি-কাশি, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই শরীরের যত্নে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতকালে তৃষ্ণা তুলনামূলক কম অনুভূত হওয়ায় অনেকেই পানি কম পান করেন। এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি স্যুপ, ফলমূল ও পানিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ত্বক ও ঠোঁটের যত্ন নিন
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে চুলকানি, খসখসে ভাব ও ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। ঠোঁটে লিপ বাম লাগানো এবং অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে দীর্ঘ সময় গোসল করা এড়িয়ে চলাও উপকারী। শীতকালেও বাইরে গেলে ত্বকের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন।
খাদ্যতালিকায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার
শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিঙ্কসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ুন
শীতকালে বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে সতর্ক থাকা জরুরি। অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতাও নিতে হবে।
ব্যায়াম ও ঘুমে নিয়মিত হোন
শীতের সকালে বিছানা ছাড়তে অনীহা থাকলেও শরীর সচল রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা ঘরে সহজ কিছু শরীরচর্চা শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি অনুসরণ করা জরুরি।
শীতের পোশাক ও ঘরের পরিবেশ প্রস্তুত রাখুন
শীত শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় গরম পোশাক, মোজা, কম্বল ও বিছানার চাদর পরিষ্কার করে প্রস্তুত রাখা ভালো। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের শরীর উষ্ণ রাখার বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। ঘর গরম করতে কয়লা বা অন্য কোনো জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই এ ধরনের ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা জরুরি।
টিকা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকুন
বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-ইতিহাস অনুযায়ী ফ্লু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। হাঁপানি, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে শীতের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ ও চিকিৎসা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করাও ভালো। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের প্রস্তুতি মানে শুধু গরম পোশাক বের করা নয়; বরং খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শরীরচর্চা, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসচেতনতার সমন্বয়। আবহাওয়া পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই এসব অভ্যাস গড়ে তুললে ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকা সহজ হতে পারে।
তথ্যসূত্র: উইন্টার ভ্যাকেশন অ্যান্ড উইন্টার হেলথ