স্কিনকে স্মুথ এবং হেলদি রাখতে কতো কিছু করা হয়। আর এইজন্য স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ হয় নিত্যনতুন সব প্রোডাক্ট। পাশাপাশি এক্সট্রা কেয়ারের পারপাসে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন বিউটি টুলসেরও। সকালের স্কিনকেয়ার রুটিনে একটি সবুজ পাথরের ছোট্ট রোলার, হলিউড তারকা থেকে শুরু করে বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার অনেকের হাতেই দেখা যায় এটি। বিউটি ট্রেন্ড হিসেবে সর্বত্র দেখতে পাওয়া এই জেড রোলার গুলো কি? বাস্তবিকে এটি কি সত্যিই ত্বকের জন্য উপকারী, নাকি সবই শুধুই একটি ট্রেন্ড?
ত্বকের পাফিনেস কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে ফেস ম্যাসেজের জুড়ি নেই। আর এই ম্যাসেজের সহায়ক হিসেবে জেড স্টোন রোলার ব্যবহার করা হয়। শীর্ষস্থানীয় বিউটি ব্লগার ও ভ্লগার থেকে শুরু করে মেগান মার্কেল এবং র্যাচেল রে-এর মতো সেলিব্রেটিরা পর্যন্ত সকলেই মুখের ত্বককে টানটান করতে, ফোলাভাব কমাতে এবং উজ্জ্বল করার ক্ষমতার জন্য এই প্রাচীন চীনা সরঞ্জামটির উপর আস্থা রাখেন।
জেড রোলার তৈরি হয় জেড অথবা কোয়ার্টজ নামক পাথর থেকে। হ্যান্ডহেল্ড ম্যাসেজারগুলো সাধারণত দুটি জেড পাথরের মাথা দিয়ে উভয় পাশে যুক্ত থাকে। এই রোলারগুলো কিন্তু স্কিনকেয়ারের জন্য সাম্প্রতিক উদ্ভাবন নয়, বরং এটি শত বছরের পুরনো একটি যন্ত্র, যার বৈশিষ্ট্যগুলো ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা (টিসিএম) এর ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ৭ম শতকে চীনে কিং রাজবংশের নারীরা তাদের যৌবন ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এই সবুজ রত্ন পাথরটি ব্যবহার করতেন। সেখানে বিশ্বাস করা হয় যে এর নিরাময় ও প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। চীনা চিকিৎসাবিদ্যায় জেড পাথরকে স্বর্গের পাথর বলা হয় এবং এটি স্বাস্থ্য, সম্পদ, দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মানা হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, এগুলো স্কিনে কি কি সুবিধা দেয়?
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মুখ বা চোখের কোল ফুলে থাকে। জেড রোলার দিয়ে হালকা ম্যাসেজ করলে লিম্ফ্যাটিক ফ্লুইড সরে যায় এবং ফোলাভাব দ্রুত কমে। ফেসিয়াল ম্যাসেজের ফলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ত্বককে প্রাকৃতিক গ্লো বা উজ্জ্বলতা এনে দেয়। সিরাম, ময়েশ্চারাইজার বা ফেস অয়েল দেয়ার পর জেড রোলার দিয়ে ম্যাসাজ করলে প্রোডাক্টগুলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মুখের পেশীগুলো রিল্যাক্স হয় এবং ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা বা ফাইন লাইনস কমাতে সাহায্য করে।
জেড স্টোন প্রাকৃতিকভাবেই ঠাণ্ডা থাকে। এটি ব্যবহারের ফলে ত্বকের ইরিটেশন বা প্রদাহ কমে এবং চমৎকার এক প্রশান্তি পাওয়া যায়।
সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম
প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। শুকনো ত্বকে রোলার ঘষবেন না। তাই মুখে ভালো কোন সিরাম বা অয়েল লাগিয়ে নিন যাতে রোলার মসৃণভাবে ঘোরে। এটি মুখে নিচের দিকে শুরু করে উপরের দিকে টেনে রোল করতে হবে। সঠিক ডিরেকশনে ম্যাসাজ হচ্ছে; থুতনি বা চিবুক থেকে কান এবং চোয়ালের দিকে, গাল থেকে কানের উপরের দিকে, কপাল থেকে চুলের হেয়ারলাইনের দিকে জোরে চাপ না দিয়ে একদম হালকা হাতে ম্যাসাজ করতে হবে। এর বড় অংশটি কপাল, গাল ও চিবুকের জন্য এবং ছোট অংশটি চোখের চারপাশের সংবেদনশীল অংশের জন্য। বলা হয় যে, এই হাল্কা থেকে মাঝারি চাপ রক্ত সঞ্চালন এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। অনেকের মতে, ব্যায়াম যেমন শরীরকে টোন করতে পারে, তেমনি জেড রোলার মুখকেও টোন করতে পারে।
সকালে বা রাতের স্কিনকেয়ার রুটিনে এটিকে সংযোজন করা যেতে পারে। ব্যবহারের অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে জেড রোলারটি ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে একটি ঠান্ডা রোলার নিদ্রাহীন, ফোলা চোখকে সতেজ দেখাতে পারে। আর রাতে মুখের ম্যাসেজিং টুলটি ত্বকের প্রদাহকে শান্ত করার জন্য দূর্দান্ত।
সাইড এফেক্ট আছে কি?
জেড রোলারগুলো প্রতিদিন এবং প্রতিটি স্কিন টাইপের জন্য ব্যবহার করা নিরাপদ। তবে ব্যবহারের পর সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে এগুলো ব্যাকটেরিয়া এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে। মনে রাখতে হবে যে রোলারগুলো একজিমা বা রোসেসিয়ার মতো প্রদাহজনক ত্বকের অবস্থাতে সাহায্য করবেনা। বাজারে অনেক কোয়ালিটির রোলার কিনতে পাওয়া যায়। একটু দাম দিয়ে ভালো কোয়ালিটির কিনলেই ভালো হয়। আসল জেড রোলার চেনার উপায় হলো এটি স্পর্শ করলে প্রাকৃতিকভাবেই ঠাণ্ডা অনুভূত হবে এবং পাথরের ভেতর সূক্ষ্ম প্রাকৃতিক প্যাটার্ণ বা খাঁজ দেখা যাবে।
সৌন্দর্যের জগতে প্রতিদিনই নতুন নতুন ট্রেন্ড আসে আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা জেড রোলার প্রমাণ করে, কিছু ঐতিহ্য সময়ের গন্ডী পেরিয়েও টিকে থাকতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরী, জেড স্টোন রোলার অলৌকিক কোনো সৌন্দর্যযন্ত্র নয়। তবে এটি স্কিনকেয়ারের রুটিনে আরামদায়ক ম্যাসেজ, সাময়িক ফোলাভাব কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা মি টাইম উপভোগ করার একটি সুন্দর উপায় হতে পারে।