কফি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়?

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সকালের এক কাপ কফি অনেকেরই দিনের শুরুতে সতেজতা এনে দেয়। কিন্তু এই জনপ্রিয় পানীয়ের সঙ্গে লিভারের স্বাস্থ্যেরও একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে কফি খাওয়াকেই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় বলা যায় না।



ফ্যাটি লিভার, বর্তমানে যাকে অনেক ক্ষেত্রে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়, এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে। অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় নানা সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।



কফির কী উপকার হতে পারে?


গবেষণায় কফির সঙ্গে লিভারে ফাইব্রোসিস বা ক্ষত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা যায়, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কফি পানকারীদের উল্লেখযোগ্য লিভার ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি কম ছিল।



সাম্প্রতিক একটি বড় গবেষণাতেও বেশি কফি পান করার সঙ্গে লিভারে চর্বি, প্রদাহজনিত পরিবর্তন ও ফাইব্রোইনফ্ল্যামেশনের কিছু সূচক কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।



কফিতে থাকা বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য এ ধরনের প্রভাবের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা করা হয়। তবে ঠিক কীভাবে কফি লিভারকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।



কত কাপ কফি খাবেন?


কফির এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যেটিকে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের জন্য সবার ক্ষেত্রে আদর্শ বলা যায়। বরং গবেষণার ফলাফলও একেবারে একমুখী নয়। কিছু গবেষণায় কফি ও ফ্যাটি লিভারের কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও অন্য গবেষণায় ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক স্পষ্ট পাওয়া যায়নি।


তাই শুধু ফ্যাটি লিভার ঠেকানোর আশায় অতিরিক্ত কফি পান শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ করে কফিতে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা উচ্চ-ক্যালরির ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির মোট ক্যালরি ও চিনি বেড়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের একটি বড় পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় আনসুইটেনড কফির সঙ্গে MASLD-এর কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত কফির ক্ষেত্রে একই সম্পর্ক দেখা যায়নি।



ফ্যাটি লিভার কমাতে আসল করণীয়


ফ্যাটি লিভার থাকলে শুধু কফির ওপর নির্ভর না করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চ-ক্যালরির খাবার কমানোর দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


অর্থাৎ, পরিমিত কফি লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে—কিন্তু এটি ফ্যাটি লিভারের ওষুধ নয়। ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

sidebar ad