নতুন মায়েরা বুঝে উঠতে পারেন না কোন কাজটি আগে করবেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ


ছবি: এআই/রোদসী
ছবি: এআই/রোদসী

গৃহিণী নতুন মায়ের দিন শুরু হয় অন্য সবার আগে, আর শেষ হয় সবার পরে। এক হাতে ছোট্ট শিশুকে সামলানো, অন্য হাতে রান্না, ঘর গোছানো, কাপড় ধোয়া—সবকিছুই যেন তাঁকেই সামলাতে হয়।


শিশুর কান্না, খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো কিংবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া—এসবের মাঝেও থেমে থাকে না সংসারের চাকা। তবু একজন মা জানেন, প্রতিদিন সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করাই সফলতা নয়। বরং শিশুর নিরাপত্তা, নিজের সুস্থতা এবং কাজের অগ্রাধিকার ঠিক রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


কিন্তু বাস্তবতা হলো, নতুন মায়েরা শুরুতে অনেক সময়ই বুঝে উঠতে পারেন না কোন কাজটি আগে করবেন, কীভাবে সময় ভাগ করবেন কিংবা নিজের জন্য কতটা সময় রাখবেন। তাই তাঁদের প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা।


আজকের আলোচনায় থাকছে নতুন মায়েদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা ও ঘরের কাজ সহজ করার কিছু কার্যকর উপায়।


কাজ ভাগ করে করা, শিশুর ঘুমের সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সেরে ফেলা এবং নিজের জন্যও অল্প কিছুটা বিশ্রামের সময় রাখা—এসব ছোট অভ্যাসই দিনের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।


মনে রাখতে হবে, একজন গৃহিণী মা শুধু ঘরের কাজই করেন না। তিনি একই সঙ্গে একজন পরিচর্যাকারী, শিক্ষক, রাঁধুনি, সংগঠক এবং পরিবারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষ। তাঁর প্রতিটি দিনের পরিশ্রম অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু তার মূল্য অপরিসীম।


তাহলে প্রশ্ন হলো, নতুন মা কীভাবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল।


নতুন মায়ের জন্য সময় ব্যবস্থাপনার সহজ উপায়


শিশু ঘুমালে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে করুন


শিশু ঘুমিয়ে পড়লে রান্না, কাপড় ধোয়া কিংবা ঘর পরিষ্কারের মতো জরুরি কাজগুলো আগে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করুন।


সব কাজ একসঙ্গে না করে ভাগ করে নিন


সকালে রান্না, দুপুরে কাপড় ধোয়া, বিকেলে ঘর গোছানো—এভাবে কাজ ভাগ করে নিলে চাপ কম অনুভূত হবে।


আগের রাতেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন


সবজি কেটে রাখা, মসলা গুছিয়ে রাখা কিংবা পরদিনের কাপড় বের করে রাখলে সকালে অনেকটা সময় বাঁচবে।


শিশুকে নিরাপদে পাশে রাখুন


শিশু ছোট হলে তাকে বেবি চেয়ার, প্লেম্যাট বা নিরাপদ খেলার জায়গায় রাখুন। এতে তাকে চোখের সামনে রেখেই নিশ্চিন্তে কাজ করা যাবে।


বয়স উপযোগী ছোট কাজে শিশুকে যুক্ত করুন


শিশু একটু বড় হলে খেলনা গুছিয়ে রাখা বা কাপড় ঝুড়িতে দেওয়ার মতো ছোট কাজে তাকে উৎসাহিত করুন। এতে সে যেমন শিখবে, তেমনি আপনার কাজও কিছুটা সহজ হবে।


১০–১৫ মিনিটের লক্ষ্য ঠিক করুন


একবারে দীর্ঘ সময় কাজ করার বদলে ১০–১৫ মিনিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম হবে।


অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে রাখুন


ঘর যত কম অগোছালো থাকবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও তত কম সময় লাগবে।


সহায়তা চাইতে দ্বিধা করবেন না


পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকলে ছোটখাটো কাজ তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। সবকিছু একা করার চেষ্টা না করাই ভালো।


নিজের বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন


ক্লান্ত শরীর ও মন নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা কঠিন। তাই সুযোগ পেলেই কিছুটা বিশ্রাম নিন। একজন সুস্থ মা-ই শিশুর সবচেয়ে বড় শক্তি।



মনে রাখবেন, প্রতিদিন সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। একজন নতুন মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নিজের সুস্থতা বজায় রাখা এবং শিশুর নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিত করা।


নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হোন। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়বে, আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন, কীভাবে ছোট্ট দুই হাতে এত বড় দায়িত্ব সুন্দরভাবে সামলানো যায়।


ঢাকা/ইজেই/আরএস

sidebar ad