নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের একটি পরিচিত সমস্যা জরায়ুতে টিউমার। তবে টিউমার মানেই ক্যানসার নয়। জরায়ুর পেশিতে তৈরি হওয়া ফাইব্রয়েড (Fibroid) সাধারণত নিরীহ বা ক্যানসারবিহীন টিউমার। অন্যদিকে জরায়ুমুখের ক্যানসার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সমস্যা, যার সঙ্গে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV)-এর সংক্রমণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
কেন জরায়ুতে টিউমার হয়?
আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের (ACOG) তথ্য অনুযায়ী, জরায়ুর ফাইব্রয়েড হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যেমন,
*ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাব।
*পারিবারিক ইতিহাস বা জিনগত প্রবণতা।
*বয়স ও প্রজননকালীন হরমোনের পরিবর্তন।
তবে সব নারীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না। ফাইব্রয়েড অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
*মাসিকের সময় অতিরিক্ত *রক্তপাত বা দীর্ঘদিন রক্তপাত হওয়া।
*তলপেটে ব্যথা, ভারী ভাব বা পেট ফুলে থাকা।
*বারবার প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা কোমরে ব্যথা।
*রক্তস্বল্পতা, সহবাসের সময় ব্যথা বা কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণে সমস্যা।
*জরায়ুমুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে মাসিকের বাইরে, সহবাসের পর রক্তপাত কিংবা অস্বাভাবিক স্রাবও সতর্কসংকেত হতে পারে।
এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে বিষয় টাভএমন নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল HPV টিকা
জরায়ুর সব ধরনের টিউমার প্রতিরোধ করে না। এটি মূলত জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী উচ্চঝুঁকির HPV সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ACOG-এর তথ্য অনুযায়ী, HPV টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই টিকা নিলে সুরক্ষা সবচেয়ে ভালো হয়। সাধারণত ৯–১৪ বছর বয়সে টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
টিকা নেওয়ার পরও নির্ধারিত বয়স ও নির্দেশনা অনুযায়ী জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
প্রতিরোধ ও করণীয়: নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে অবহেলা করবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।
HPV টিকার উপযুক্ততা ও ডোজ সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রয়োজন অনুযায়ী HPV পরীক্ষা বা প্যাপ টেস্ট করান।
জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়লেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। টিউমারের ধরন, আকার, অবস্থান ও উপসর্গের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। কিছু ফাইব্রয়েডে শুধু পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট, আবার কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ACOG — Uterine Fibroids | WHO Cervical Cancer