আপনি হয়তো শুনেছেন যে শিক্ষাই সাফল্যের চাবিকাঠি—আর কথাটি সত্যিই সত্য। প্রকৃতপক্ষে, এমন আটটি জোরালো কারণ রয়েছে যা বিশ্বাস করতে সাহায্য করে যে, একবিংশ শতাব্দীতে উচ্চ বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করলে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত আপনি আরও বেশি সফল হয়ে উঠবেন।
১. শিক্ষা মানুষকে দক্ষতা দেয় যা কোম্পানিগুলো খুঁজছে-
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পথে আপনি সময় ব্যবস্থাপনা এবং একই সাথে একাধিক কাজ সামলানোর কৌশল শিখবেন; পাশাপাশি শিখবেন নানা ধরনের মানুষের সাথে কীভাবে যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া করতে হয় এবং অর্জন করবেন এমন সব নতুন দক্ষতা যা বর্তমান কর্মবাজারে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। উদাহরণ স্বরূপ, ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল’ এর কথাই ধরা যাক—এখানকার শিক্ষকরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন এবং তারা শিক্ষার্থীদের এমন সব অত্যাধুনিক দক্ষতা শেখানোর জন্য প্রস্তুত, যা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী হিসেবে খুঁজছে; কারণ একবিংশ শতাব্দীতে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যোগ্য কর্মীরই প্রয়োজন তাদের। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আজকের দিনে প্রকৃত শিক্ষার অর্থ হলো এমন কোনো শিক্ষা কার্যক্রম বা প্রোগ্রাম, যা শিক্ষার্থীদের এমন সব দক্ষতা প্রদান করে—যা তারা পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সাথে সাথেই কাজে লাগাতে পারে।
২. আপনি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবেন এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হবেন-
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অর্থ কেবল কোর্স সম্পন্ন করা বা অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হওয়া নয়। উচ্চশিক্ষার একটি সফল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা, অ্যালামনাই (প্রাক্তন শিক্ষার্থী) এবং অন্যান্য পক্ষ যুক্ত থাকে; বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে এরা আপনার পেশাগত নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে পড়াশোনা চলাকালীন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে এমন সব অনলাইন কমিউনিটির সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যেখানে আপনি আপনার মতোই অন্যান্য শিক্ষার্থী, চিন্তাবিদ, ডিগ্রি-প্রত্যাশী এবং সমস্যা-সমাধানকারীদের সাথে মতবিনিময় ও যোগাযোগ করতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে আপনি নিজের ধারণা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা লাভ করবেন। আর পড়াশোনা শেষ করার পর দেখবেন, বর্তমানের বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক জগতে এমন সব কর্মীর চাহিদা রয়েছে যারা অনলাইন কমিউনিটির অংশ হতে জানেন এবং গ্রাহকদের কাছে কোম্পানির ব্র্যান্ড বা ভাবমূর্তি সঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম।
উদাহরণস্বরূপ, 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল' -এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্যের চমৎকার সব গল্প রয়েছে যা বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তা ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অন্যান্য সহযোগীদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন; পরবর্তীতে তাদের সুপারিশ নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান কিংবা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।
৩. পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন-
আপনি যখন 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল' বা অন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা প্রত্যাশা করে, আপনি সেগুলো ব্যবহার করেই পড়াশোনা চালিয়ে যান। এর ফলে আপনি মূল্যবান ডিজিটাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা আপনার শিক্ষাজীবনকে সাফল্যের চাবিকাঠিতে পরিণত করে।
৪. আপনি আপনার পেশাগত আগ্রহের ক্ষেত্রটি সুনির্দিষ্ট করতে পারবেন-
যখন আপনি কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে পড়াশোনা করেন, তখন নিজের পেশাগত আগ্রহ, ডিগ্রিটি কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কী করতে চান এবং কী কী পেশাগত সুযোগ রয়েছে—সেসব বিষয়ে আরও ভালোভাবে জানতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চশিক্ষার এই যাত্রাপথে আপনি এমন সব রিসোর্স, পরিচিতি, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য প্রভাবকের সংস্পর্শে আসেন যা আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত পেশা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ করে দেয়। আপনি কী করতে চান, আপনার সক্ষমতা কতটুকু এবং পড়াশোনা শেষ করার পর কীভাবে সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়া সম্ভব—এসব বিষয়ে আপনার ধারণা অনেক বেশি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৫. আপনি সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা গড়ে তুলতে পারবেন-
এমনকি পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেও, আপনাকে হয়তো একই সাথে চাকরি বা সংসারের বাজেট সামলানোর মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জীবনের নানা পরিস্থিতিতে আমাদের প্রায়শই একই সাথে একাধিক ভূমিকা পালন করতে হয়; আর পড়াশোনার এই প্রক্রিয়াটি আপনাকে প্রাকৃতিকভাবেই সময় ব্যবস্থাপনার সেই কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী করে তোলে—যা বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং সাফল্যের অন্যতম নিশ্চিত চাবিকাঠি।
৬. আপনি পিছিয়ে পড়বেন না-
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ সমাজই ছিল মূলত গ্রামীণ এবং একে অপরের সাথে খুব একটা সংযুক্ত ছিল না। অনেকেই হাই স্কুল বা মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ না করেই কেবল নামমাত্র শিক্ষা লাভ করতেন। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করে আছে; তাই বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার, লিখিত ও মৌখিক দক্ষতার মাধ্যমে যোগাযোগ এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য হাই স্কুল পর্যায়ের মৌলিক শিক্ষা থাকাটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের কথা ভাবলে হাই স্কুলের সনদটি কেবল একটি ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবেই বিবেচিত হয়। প্রকৃতপক্ষে ২০১৯ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যেসব চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, তার বেশিরভাগের জন্যই স্নাতক ডিগ্রির প্রয়োজন হবে।
উপসংহার-
এই সব কারণেই, হাই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করা সাফল্যের চাবিকাঠি। আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যা প্রতিনিয়ত একে অপরের সাথে সংযুক্ত; এখানে জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে সুযোগ এবং প্রত্যাশা—উভয়ই দিন দিন বাড়ছে। আর তাই, সফল হওয়ার জন্য যখন কার্যকর সব সুযোগ ও সম্পদ হাতের কাছেই রয়েছে, তখন আপনি নিশ্চয়ই পিছিয়ে থাকতে চাইবেন না। 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল' এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সুযোগগুলো অনুধাবন করে এবং সে কারণেই তারা শিক্ষাকে টিউশন-ফি মুক্ত ও সবার জন্য সহজলভ্য করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ অনলাইন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পড়াশোনা পুনরায় শুরু করতে চাইলে 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল'-এর একাডেমিক প্রোগ্রামগুলো দেখে নিতে পারেন! 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল' অ্যাসোসিয়েট, ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স—এই সব ধরনের ডিগ্রি প্রোগ্রামই অফার করে, যার প্রতিটিই অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় এবং সম্পূর্ণ টিউশন-ফি মুক্ত। অত্যধিক খরচ ছাড়াই মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে 'ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল' আপনার মতো শিক্ষার্থীদের জন্যই উপযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান!
টিএ