বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কর্মক্ষেত্রের ধরন ও কাজের পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এআই কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এআই-এর এই সুবিধা সব কর্মী সমানভাবে পাচ্ছেন কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের মধ্যে এআই ব্যবহারের সুযোগের পার্থক্য কর্মক্ষেত্রে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ৭৪ শতাংশ নারী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না, কিন্তু কেন?
OECD-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪১% পুরুষ কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেন, যেখানে নারী কর্মীদের মধ্যে এই হার মাত্র ২৯%।
অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। এই পার্থক্য শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের বৈষম্যকেই নির্দেশ করে না; বরং এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
তাই কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে এই ব্যবধান কেন তৈরি হচ্ছে, এর ফলে নারীরা কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কীভাবে এআই-সম্পর্কিত সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকেরা বলছেন, যেহেতু অনেক ICT ও AI-সম্পর্কিত চাকরি তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতনের ও আকর্ষণীয়, তাই নারীরা এসব চাকরির সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়লে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা আরও অসুবিধায় পড়তে পারেন।
এআই সম্পর্ কীত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। যেহেতু নারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, তাই নারীদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও মতামত যথাযথভাবে বিবেচিত না হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে এই ব্যবধান কেন তৈরি হচ্ছে, এর ফলে নারীরা কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কীভাবে এআই-সম্পর্কিত সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।