এক্সের সাথে যোগাযোগ কী অনুভূতির ফাঁদ?

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬

এক্সের সাথে যোগাযোগ কী অনুভূতির ফাঁদ?

কখনো কেউ ছিল, যার একটা মেসেজেই দিনটা ভালো লাগত… আর আজ সেই মানুষটাই কেবল নাম হয়ে আছে ফোনের পুরোনো চ্যাটে। একসময় যার সাথে ভবিষ্যৎ দেখা যেত,এখন তার সাথে সামান্য কথা বলাও যেন ভেতরে অদ্ভুত এক শূন্যতা তৈরি করে।এক্সের সাথে যোগাযোগ রাখা। এটা কি সত্যিই অভ্যাস,নাকি না বলা কিছু অনুভূতির ফাঁদ?



আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সম্পর্ক ভাঙলেও যোগাযোগ পুরোপুরি শেষ হয় না।এক ক্লিকেই পুরোনো মানুষ আবার সামনে এসে দাঁড়ায়।কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই… অতীতকে ধরে রাখা কি সত্যি পরিপক্বতা, নাকি নিজের ভেতরের অস্থিরতার আধুনিক রূপ? এক্সের সাথে যোগাযোগ রাখা।এটা কি শুধু স্বাভাবিক একটা যুগোপযোগী ধারণা,নাকি নীরবে ভেতরের ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তোলার নাম?



এক্সের সাথে যোগাযোগ রাখা অনেক সময়ই মনে হয় স্বাভাবিক।কিন্তু বাস্তবটা ভেতরে ভেতরে একটু অন্যরকম।যে সম্পর্কটা একদিন শেষ হয়ে গেছে, সেখানে যোগাযোগ থাকলে পুরোনো অনুভূতিগুলো আবার জেগে উঠতে পারে। বর্তমান সম্পর্কেও আসে অস্থিরতা,সন্দেহ আর অপ্রয়োজনীয় তুলনা। সবচেয়ে বড় কথা,আগের ক্ষতটা পুরোপুরি শুকাতে না দিয়ে বারবার স্পর্শ করলে সেটা আরও গভীর হয়।এটা অনেক সময় নতুন শুরুটাকেও বাধাগ্রস্ত করে,কারণ মনটা তখনও অতীতে আটকে থাকে, সামনে এগোতে পারে না।



এক্সের সাথে যোগাযোগ রাখা সবসময়ই খারাপ কিছু না।সবকিছু নির্ভর করে মনোভাব আর সীমারেখার ওপর। যদি দুজনেই অতীতকে সম্মান করে,কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে এবং আবেগের জায়গাটা নিয়ন্ত্রণে থাকে,তাহলে যোগাযোগটা পরিণত সম্পর্কের একটা অংশ হতে পারে।অনেক সময় পুরোনো সম্পর্ক থেকে পাওয়া শিক্ষা,অভিজ্ঞতা আর বোঝাপড়া একজন মানুষকে আরও পরিপক্ব করে তোলে।তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,সম্মান,স্পষ্টতা আর সীমা।যদি এগুলো ঠিক থাকে,তাহলে যোগাযোগটা ক্ষতির বদলে এক ধরনের শান্ত ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের রূপ নিতে পারে।



সমাধানটা আসলে এক কথায়,সীমা আর বাস্তবতা। এক্সের সাথে যোগাযোগ রাখতে হলে প্রথমেই নিজের ভেতরে পরিষ্কার হতে হবে,আমি কেন যোগাযোগ রাখছি?যদি সেটা হয় আবেগ,একাকীত্ব বা পুরোনো টান থেকে।তাহলে সেটা ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকেই যাবে।কিন্তু যদি হয় সত্যিকারের পরিণত বোঝাপড়া আর কোনো লুকানো প্রত্যাশা ছাড়া,তখনই সেটা স্বাস্থ্যকর থাকতে পারে।


দ্বিতীয়ত,স্পষ্ট সীমারেখা দরকার।কোন বিষয় পর্যন্ত কথা হবে,কতটা ঘনিষ্ঠতা থাকবে, আর কোথায় থামতে হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া। অতীতকে শিক্ষা হিসেবে রাখো,আশ্রয় হিসেবে না। কারণ যে অতীতে বারবার ফিরে যায়,সে ভবিষ্যতের দরজা নিজেই বন্ধ করে দেয়।



সব সম্পর্কই ইতিহাস হয়ে যেতে পারে,কিন্তু সব ইতিহাসকে বারবার জীবনে টেনে আনা ঠিক না।

এক্সকে ধরে রাখাটা যদি শান্তি দেয়,তাহলে ভালো।কিন্তু যদি তা বারবার অস্থিরতা,সন্দেহ আর কষ্ট ফিরিয়ে আনে,তাহলে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় পরিণত সিদ্ধান্ত। জীবনে এগিয়ে যাওয়াই আসল ভালোবাসা নিজের প্রতি।



লেখা: ইশরাত জাহান ইনা 

sidebar ad