আমি বীথি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাই আমার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি কখনও শুক্রবার বা শনিবারে হয় না। আমার ছুটির দিন রোববার। এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি। কিন্তু দিনটি কাটে আরও বেশি ব্যস্ততায়। রোববারে আমার অফিস নেই, তাই সবার ধারণা—আজ আমি একেবারে ফাঁকা। অথচ আমার কাছে ছুটির দিন মানেই যেন ঘরের কাজের অতিরিক্ত তালিকা।
ছুটির দিনে ভাবি একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠবো। কিন্তু তা হয় না। আমার ছেলেকে নিয়ে সকাল আটটার আগেই স্কুলে পৌঁছে যেতে হয়। ওকে স্কুলে দিয়ে এসেই কে কি খাবে, তা তৈরি করতে হয়। সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কোথাও যেন একটা দীর্ঘশ্বাস জমে যায়।
সপ্তাহের ছয় দিন অফিসে কাজ করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব, সময়ের সঙ্গে দৌড়, কাজের চাপ, সহকর্মীদের প্রত্যাশা—সব সামলে বাড়ি ফিরেও দায়িত্বের শেষ নেই। ঘরে ফিরলে মা, স্ত্রী, কর্মী—সব পরিচয় একসঙ্গে আমার কাঁধে এসে বসে। ছুটির দিনটুকুই ছিল আমার কাছে একটু নিজের মতো থাকার সময়। অথচ সেই দিনটিও কখনও মনের মতো হয় না।
মাঝে মধ্যে নিজেকে প্রশ্ন করি— আমি কি শুধু সবার প্রয়োজন পূরণ করার জন্যই? আমার কি একটু বিশ্রামের অধিকার নেই?
প্রশ্নটা মনে হতেই বুকটা ভার হয়ে গেল। আমি আমার পরিবারকে ভালোবাসি। তাদের জন্য রান্না করতে, যত্ন নিতে, তাদের মুখে হাসি দেখতে আমার ভালোই লাগে। কিন্তু ভালোবাসার অর্থ কি নিজের ক্লান্তিকে অস্বীকার করা?
*বীথি রানী (ছদ্মনাম)
(রোদসী নারীর ডায়েরিতে আপনিও লিখতে পারেন, আপনার না বলা সুখ, দুঃখের কথা। রোদসী আপনার বন্ধুর মতো, আর বন্ধুকে মনের কথা লিখলে, দেখবেন দুঃখ কমে যাবে।)