ইশরাত জাহান ইনা
ভালোবাসা থাকলেই কি দাম্পত্য টিকে থাকে? না। অযত্নে যেমন একটি গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়, তেমনি স্বাস্থ্যকে অবহেলা করলে ভালোবাসায় ভরা সম্পর্কও একসময় ক্লান্ত আর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অসুস্থতা, মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন কিংবা স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এসবই নীরবে দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। হতে পারে ভয়াবহ কোন জটিল রোগ।
তাই একটি সুখী,শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের জন্য শুধু ভালোবাসা নয়, চাই স্বাস্থ্য সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুস্থ দু'জন মানুষই পারে একটি সুস্থ ও সুখী পরিবার গড়ে তুলতে।
অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানায়, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস,স্ট্রোক ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য,নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান এড়ানোর মাধ্যমে এসব রোগের ঝুঁকি এড়ানো অনেকটাই কমানো যায়।
মানসিক সুস্থতা দাম্পত্যকে শক্তিশালী করে তোলে। দাম্পত্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ,উদ্বেগ বা বিষণ্নতা যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে প্রভাবিত করতে পারে।হতে পারে পারমানেন্ট ডিপ্রেশন এর মত মানসিক রোগ। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক হয়।
সুস্থ গর্ভধারণ ও সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য গর্ভধারণের আগে ও সময়ে মা ও বাবার স্বাস্থ্য,পুষ্টি,প্রয়োজনীয় টিকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য এটা খুবি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।রক্তচাপ,রক্তে শর্করা, ওজনসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সময়মতো করান।আর সুস্থ দাম্পত্যের জীবন যাপন করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান: সুষম খাদ্য,পর্যাপ্ত পানি এবং মৌসুমি ফল সবজি শরীরকে সুস্থ রাখে সতেজ রাখে মন।
একসঙ্গে ব্যায়াম করুন: হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে, পাশাপাশি সম্পর্কও আরও আন্তরিক হয় রোমান্টিক হয়।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: ভালো ঘুম শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।আর মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন: খোলামেলা কথা বলা,একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে ভুল গুলো দূর হয়ে যায় একে অপরের মন থেকে।দীর্ঘ দিনের অব্যাক্ত কথা গুলো প্রকাশিত হলে মন হয় প্রফুল্ল।
ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করুন: ধূমপান,মাদক বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল (যেখানে প্রযোজ্য)দাম্পত্য ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।এসব পরিহার করতে হবে।
প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন: পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভধারণের প্রস্তুতি এবং যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিন।
পরিকল্পিত পরিবার সুখি দম্পতি।
মনে রাখুন-
একটি সুস্থ শরীর,প্রশান্ত মন এবং পারস্পরিক যত্ন,এই তিনটি মিলেই গড়ে ওঠে একটি সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য। আজকের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই আগামী দিনের সুন্দর পারিবারিক জীবনের ভিত্তি।
প্রজনন স্বাস্থ্য শুধু নারীর নয়,স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব। প্রফেসর ডা. ফেরিহা হাসিন বলেছেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া এবং সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
দ্য ডেইলি স্টার এ প্রকাশিত বিশেষজ্ঞ মতামত, যেখানে প্রফেসর ডা. ফেরিহা হাসিন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ অনেক সময় শুরুতে লক্ষণ ছাড়াই থাকে। তাই বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)