“মুখ হলো মনের ছবি এবং চোখ তার দোভাষী’’। চোখের সাজের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে আইল্যাশ। চোখ আকারে ছোট বা বড় হোক, কালো এবং ঘন চোখের ল্যাশ নারীর চোখকে আরও সুন্দর ও আবেদনময়ী করে তোলে। বারবার মাস্কারা লাগানো এবং নকল ল্যাশের ঝামেলা এড়াতে আইল্যাশ এক্সটেনশন বিউটি ট্রিটমেন্ট হিসেবে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আজ এই ল্যাশ এক্সটেনশনের খুঁটিনাটি ব্যাপারে জানবো।
আধা-স্থায়ী আইল্যাশ এক্সটেনশনগুলো আপনার চোখের ল্যাশের অভূতপূর্ব পরিবর্তন করার সবচেয়ে নাটকীয় ব্যাপার। এটি হল কসমেটিক অ্যাপ্লিকেশন যা ল্যাশ লিফট বা ল্যাশ টিন্টের বিপরীতে চোখের ল্যাশের দৈর্ঘ্য, কার্ল, পূর্ণতা এবং পুরুত্ব বাড়ায়। মিল্ক, সিল্ক, সিন্থেটিক, মানব বা ঘোড়ার চুল সহ বিভিন্ন উপকরণ থেকে এক্সটেনশন তৈরি করা যেতে পারে। মাস্কারার প্রয়োজনীয়তা দূর করে, আইল্যাশ এক্সটেনশনগুলি চেহারায় তাৎক্ষণিক সতেজতা প্রদান করে এবং মেকআপের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
এখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, এগুলো কি ন্যাচারাল লুক দিবে? এক্সটেনশনের ফাইনাল লুকে আপনার ন্যাচারাল যে ল্যাশ আছে তার দৈর্ঘ্য, পূর্ণতা এবং উত্তোলনের সঙ্গে এর উন্নত করার সম্পর্ক জড়িত। সেই লুকটি আপনার ন্যাচারাল হবে না আরও ড্রামাটিক হবে তা মূলত নির্ভর করে ক্লায়েন্টের উপর। যত বেশি ল্যাশ এপ্লাই করা হবে, বিষয়টি তত ড্রামাটিক হবে। সাধারণত এতে প্রতি চোখে ৮০-১৪০ টি পৃথক এক্সটেনশন অন্তর্ভূক্ত থাকে, যার দৈর্ঘ্য ৬-১৮ মিমি পর্যন্ত হয়।
আইল্যাশ এক্সটেনশনের ধরণ- আইল্যাশ এক্সটেনশন এতো জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ হল সেগুলো সম্পূর্ণরুপে কাস্টমাইজযোগ্য। ন্যাচারাল থেকে ড্রামাটিক, বিভিন্ন লুক আনয়নে সামর্থ্য এই এক্সটেনশনের মোটামুটি ৪টি স্টাইল বা ধরণ রয়েছেঃ ক্লাসিক, ভলিউম, হাইব্রিড এবং উইস্পি।
ক্লাসিক- ক্লাসিক আইল্যাশ এক্সটেনশনগুলো হল ১টির উপর ১টি আইল্যাশ এক্সটেনশন। এর মানে হল একটি প্রাকৃতিক ল্যাশে একটি পৃথক এক্সটেনশন প্রয়োগ করা হয়। এগুলো সাধারণত খুব স্বাভাবিক দেখায়। এবং এমন লোকদের জন্য জনপ্রিয় যারা তাদের ন্যাচারাল ল্যাশগুলো স্বাভাবিক চেহারা বজায় রেখে শুধুমাত্র লম্বা এবং ঘন করে দেখাতে চায়।
ভলিউম- ভলিউম আইল্যাশ এক্সটেনশন প্রাকৃতিক চেহারা থেকে পরিবর্তিত হয় যা ভলিউমের চেয়ে বেশি দৈর্ঘ্য যোগ করে। এতে একটি পূর্ণ, ঘন ল্যাশ লুক দেয়। ল্যাশের রেঞ্জ ২ডি-৬ডি, মানে ১টি আসল ল্যাশের সাথে ২টি থেকে ৬টি এক্সটেনশন যোগ করা হয়। ভলিউম ল্যাশগুলো সুপার লাইটওয়েটের হয়ে থাকে। আরও ড্রামাটিক ক্রিয়েটের জন্য অনেকেই মেগা-ভলিউম স্টাইল বেছে নেয়।
হাইব্রিড- হাইব্রিড ল্যাশে ক্লাসিক এবং ভলিউমের মিক্সড থাকে। এর মানে হল কিছু ল্যাশে ক্লাসিক প্রয়োগ করা হয়, অন্যগুলোতে ভলিউম। এটি তাদের ক্ল্যাসিকের চেয়ে বেশি নাটকীয় এবং ঘন দেখায়। তবে ভলিউম ল্যাশের মতো অতটা নয়।
উইস্পি- এই স্টাইলেও বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের ক্লাসিক এবং ভলিউম ল্যাশগুলোকে একত্রিত করে। এটি তাদের একটু অসমমিত কিন্তু আরও প্রাকৃতিক দেখায়।
ল্যাশ এক্সটেনশনের পরের যত্ন- এক্সটেনশনের পরে অন্তত ৬ ঘন্টার মধ্যে চোখে পানি লাগানো ঠিক নয়। অযথাই ঘষা বা টানাটানি করাও ঠিক নয়। মুখ ধুতে হলে চোখের এলাকা এড়িয়ে একটি ওয়াশক্লথ ব্যবহার করে ধুতে হবে। এছাড়াও সমস্ত তেল টাইপের প্রোডাক্ট চোখ থেকে কয়েকদিন দূরে রাখতে হবে। তেল ল্যাশের আঠালো ভাব ভেঙ্গে দিবে এবং অকালে ল্যাশ এক্সটেনশনের ক্ষতি করবে। কৃত্রিম আইল্যাশ লাগালে মাস্কারা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনা। ল্যাশ কার্লার সহ আই মেকআপ যতটা মিনিমাল করা যায়, তত ভালো। প্রতিদিন ল্যাশ ব্রাশ করতে হবে। এই সময় রান্নার হিট থেকে যতটা দূরে থাকা যায় তত ভালো। রান্নার সময় চুলার দিকে ঝুঁকে কাজ করবেন না। কিছু রাখার সময় বা বসানোর জন্য চুলা থেকে মাথাটা সরিয়ে রাখতে হবে।
লেখা- শায়লা জাহান