পিরিয়ড নিয়ে প্রচলিত ৫ ভুল ধারণা

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পিরিয়ড বা মাসিক নারীর শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে এটি নিয়ে সমাজে এখনো নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এসব ধারণার কারণে অনেক সময় অস্বস্তি, লজ্জা কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধের মধ্যে পড়তে হয় মেয়েদের। জেনে নিন পিরিয়ড নিয়ে প্রচলিত ৫টি ভুল ধারণা ও সত্যতা।



১. পিরিয়ডের সময় গোসল করা উচিত নয়


এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। পিরিয়ডের সময় নিয়মিত গোসল করা বরং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।



২. পিরিয়ডের সময় ব্যায়াম করা যায় না


মাসিক চলাকালে সব ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ রাখতে হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। শরীর ভালো বোধ করলে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যায়াম করা যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা ব্যায়াম মাসিকের ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।



৩. পিরিয়ডের রক্ত ‘নোংরা’ বা বিষাক্ত


পিরিয়ডের রক্ত কোনো বিষাক্ত বা অপবিত্র পদার্থ নয়। এটি জরায়ুর আস্তরণ, রক্ত ও অন্যান্য টিস্যুর স্বাভাবিক মিশ্রণ, যা গর্ভধারণ না হলে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।



৪. পিরিয়ডের সময় টক বা ঠান্ডা খাবার খেলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়


টক বা ঠান্ডা খাবার খেলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এ সময় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।



৫. পিরিয়ডের ব্যথা খুব বেশি হলেও সহ্য করে যেতে হবে


হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অনেকেরই স্বাভাবিক মাসিকের অংশ হতে পারে। কিন্তু ব্যথা যদি এতটাই বেশি হয় যে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, বারবার হয়, খুব বেশি রক্তপাতের সঙ্গে থাকে বা হঠাৎ আগের চেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কখনো কখনো এ ধরনের উপসর্গ এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েডসহ অন্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।



পিরিয়ড কোনো লজ্জার বিষয় নয়; এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই ভুল ধারণার পরিবর্তে সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


তথ্যসূত্র: World Health Organization (WHO) — Menstrual Health

sidebar ad