প্রতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সবার জন্য নির্মল বাতাস নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপে উৎসাহিত করা।
ইতিহাস: বায়ুদূষণ যে শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও জলবায়ুর
ওপরও বড় প্রভাব ফেলে এই বিষয়টি সামনে রেখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর
একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে ৭ সেপ্টেম্বরকে এই আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
দিবসটির আয়োজন ও প্রচারে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে।
এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রথমবার দিবসটি পালিত হয়। প্রথম বছরের প্রতিপাদ্য ছিল
“Clean Air for All” বা সবার জন্য নির্মল বায়ু।
কীভাবে পালন করা হয়?
এই দিবসটি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করার জন্য নয়, বরং বায়ুদূষণ কমানোর বাস্তব
উদ্যোগ নেওয়ার দিন হিসেবেও দেখা হয়।
বিভিন্ন দেশে, বায়ুদূষণ ও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও প্রচারণা করা
হয়।
স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিবেশবিষয়ক ক্যাম্পেইন করা হয়।
খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার বিষয়ে প্রচারণা
চালানো হয়।
হাঁটা, সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ও কারপুল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন শহরে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশের দাবি তোলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #CleanAirDay-এর মতো হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সচেতনতা
ছড়ানো হয়।
আমাদের করণীয়:
পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। ব্যক্তিগতভাবেও আমরা অপ্রয়োজনীয়
গাড়ি ব্যবহার কমানো, যেখানে সম্ভব হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার, আবর্জনা না পোড়ানো, গাছ
লাগানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।
কারণ নীল আকাশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—এটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ (ইউএন) ও জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)।
ঢাকা/টিএ