হার্ট অ্যাটাক সবসময় হঠাৎ করে আসে—এমনটা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা কখনও কয়েক সপ্তাহ আগেও কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। তবে সবার লক্ষণ এক রকম হয় না, আর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোনো আগাম লক্ষণও নাও থাকতে পারে।
দেখে নিন যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা জরুরি-
১. বুকে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি: বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। ব্যথা কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে বা কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে।
২. অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট: বিশেষ কোনো পরিশ্রম না করেও হাঁপিয়ে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৩. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: বুকের অস্বস্তি হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৪. হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম: গরম না থাকা সত্ত্বেও ঠান্ডা ঘাম হওয়া, বিশেষ করে বুকের অস্বস্তি বা দুর্বলতার সঙ্গে থাকলে গুরুত্ব দিতে হবে।
৫. বমি বমি ভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি: বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা বদহজমের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৬. অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা: হঠাৎ খুব দুর্বল লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতিও সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৭. অকারণ অস্থিরতা বা অস্বাভাবিক উদ্বেগ: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে অস্বাভাবিক অস্বস্তি, ভয় বা উদ্বেগের অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে-
নারীদের হার্ট অ্যাটাকে বুকব্যথার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, পিঠ বা চোয়ালে ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। তাই শুধু বুকব্যথার অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
জানা দরকার-
বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত/চোয়াল/পিঠে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা করবেন না। হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। নিজের মতো করে “গ্যাসের সমস্যা” ভেবে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন