ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন এবং এর আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া নির্ধারণসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি নিয়ে ১১তম কমিশন সভায় বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করাকে এবারের সভার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসদের নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে কমিশন।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনের নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় আগামী ১৪ মে পর্যন্ত এই নির্বাচনের আইনগত সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
কমিশন এই সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে আজকের সভায় প্রয়োজনীয় রূপরেখা চূড়ান্ত করা হতে পারে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা এবং জোটগত তালিকা ইসিতে জমা দিয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পদ্ধতিতে সাধারণত সরাসরি ভোটের প্রয়োজন হয় না; বরং সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে তারা নারী সদস্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে। দলগুলো যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই এই আসনে নির্বাচিত হিসেবে গণ্য হবেন।
আজকের সভায় এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই এবং চূড়ান্ত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া উপনির্বাচন এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহর পূর্ববর্তী হুশিয়ারি অনুযায়ী কারচুপি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও কমিশন সভায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের আজকের এই ৫ দফা আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্যান্য প্রশাসনিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কমিশন চায় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের গেজেট প্রকাশ করে সংসদের পূর্ণাঙ্গ রূপ নিশ্চিত করতে। এই সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।